রাজশাহীর আসন গুলোর প্রার্থীদের জয়-পরাজয় ॥ একাধিক ক্যাটগরির উপর নির্ভর

Wins and losses of candidates in Rajshahi seats
আবুল কালাম আজাদ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৪:৫০ অপরাহ্ন জাতীয়
আবুল কালাম আজাদ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৪:৫০ অপরাহ্ন
রাজশাহীর আসন গুলোর প্রার্থীদের জয়-পরাজয় ॥  একাধিক ক্যাটগরির উপর নির্ভর
এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর আসন গুলোর জয় - পরাজয়ের ফলাফল নির্ধারন হবে একাধিক ক্যাটাগরিতে।......সংগৃহীত ছবি

এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর আসন গুলোর জয় - পরাজয়ের ফলাফল নির্ধারন হবে একাধিক ক্যাটাগরিতে।একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের আসন ও একাধিক উপজেলা নিয়ে আসন,দলীয় ভোট ব্যাংক,প্রার্থীর প্রভাব ও স্থানীয়ত্বের উপর ভোটের ফলাফল ভিন্ন হতে পারে বলে মনে কোরছেন স্থানীয় ভোটারেরা।

তারা বলছেন,একক উপজেলা নিয়ে গঠিত আসন গুলোতে দলীয় প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের নির্ধারক হতে পারেন স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহীরা। অন্যদিকে দুই ও এর বেশি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনের ক্ষেত্রে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে একাধিক কারনে।এক হলো– নারী ভোটার, নতুন ভোটার, প্রার্থীর নিজ এলাকার বাইরের উপজেলা,  দলীয়  ভোটব্যাংক ও প্রর্থীর নিজস্ব প্রভাব। 

রাজশাহী-১:-আসনটি গোদাগাড়ী ও তানোর, দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এছাড়া, বিএনপি, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ ও এবি পার্টির প্রার্থীরা সকলেই  স্থানীয়। গোদাগাড়ীর  ভোটার ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৫ জন। অপরদিকে তানোরে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫১ জন।

প্রার্থীদের জিততে হলে নিজ উপজেলা ও ইউনিয়নে বাইরের  

উপজেলার ভোট নিজের দিকে টানতে হবে। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সিট পেলেও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের কাছে আসনটি হারায়।এছাড়া ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ, বিএনপির প্রার্থীদের বিপরীতে জামায়াতের প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার ভোট পাওয়া বোঝায়, এ আসনে তাদেরও ভোট ব্যাংক আছে।  এতে অনুমান করাযায় জামাত - বিএনপি সমান তালে এগুচ্ছে।প্রার্থীর ইমেজ ও দলীয় ভোট ব্যাংকের উপর নির্ভর করছে জয় পরাজয়।

রাজশাহী-৩: পবা ও মোহনপুর এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী ৩ আসনটি।আসনটির পবায় ভোটার সংখ্যা  ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৭৩টি। বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন আসনিটির বাইরের বাসিন্দা। অপরদিকে জামায়াত ও জাতীয় পার্টির দুজন প্রার্থী পবার স্থানীয়। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এ দুই দলের প্রার্থীরা যথাক্রমে ৩৩ হাজার ৮২৪ ও ৫৬ হাজার ৬৫২টি ভোট পেয়েছিলেন। 

আরেক উপজেলা মোহনপুরে স্থানীয় প্রার্থী কেবল ইসলামী আন্দোলনের ফজলুর রহমান। ২০০৮ সালে এ দলের প্রার্থীর ভোট ছিল ৪ হাজার ৬০টি। বর্তমানে মোহনপুরের ভোটার ১ লাখ ২৯ হাজার ১৯০ জন। ফলে মোহনপুরে ভোট যার দিকে বেশি যাবে তিনি এগিয়ে থাকবেন।

রাজশাহী-৫: প্রভাবক হতে পারে ১ লাখ ৪০ হাজার ৬০৪ জন ভোটারের দুর্গাপুর।আসনটির  বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন সকল প্রার্থীই পুঠিয়ার স্থানীয়। এ উপজেলার ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ২১৩। 

বিএনপির জন্য চাপ তাদের দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী। দলীয় নজরুল ইসলাম ও বিদ্রোহী ইসফা খায়রুল হক দুজনই পুঠিয়ার। ফলে তাদের মধ্যে ভোট কাটাকাটির সম্ভাবনা আছে। আরেক বিদ্রোহী রেজাউল করিম দুর্গাপুরের ভোটার হলেও তিনি লন্ডনে থেকেছেন। তাই বিএনপিসহ সব প্রার্থীর লক্ষ্য হতে পারে দুর্গাপুরের ভোট পাওয়া।  

রাজশাহী-৬: মোট চারজন প্রার্থীর সবাই নিজ দলের জেলা শাখার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ১ লাখ ৪৪ হাজার ১১০ জনের বাঘা থেকে স্থানীয় প্রার্থী বেছে নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। অপরদিকে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির তিন প্রার্থী চারঘাটের। এখানকার ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৬৮। ফলে বাঘার ভোটের দিকে তাদের নজর থাকতে পারে।