আল্লাহ মানুষকে বিপদাপদে ফেলেন কেন
বিপদ-আপদ মুমিনের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। এই পরীক্ষার সময় ধৈর্য না হারিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা উচিত। কারণ, আল্লাহ বান্দাকে কখনো নিরাশ করেন না এবং তার সহ্য ক্ষমতার বেশি কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না। বিপদ-আপদ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে যাচাই করেন এবং কষ্টের পরই সুখ দান করেন। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা একান্ত কর্তব্য।
এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের বিষয়টি কতই না আশ্চর্যজনক! তার সব কাজই কল্যাণকর। আর এটি মুমিন ছাড়া অন্য কারও জন্য নয়। সে সুখে থাকলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে—এটি তার জন্য কল্যাণকর। আর দুঃখ-কষ্টে পড়লে ধৈর্য ধারণ করে—এটিও তার জন্য কল্যাণকর।’ (মুসলিম, হাদিস:২৯৯৯)
মানুষ কেন বিপদাপদে পতিত হয় এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে কীভাবে পরীক্ষা করেন—এমন ৮টি কারণ তুলে ধরা হলো এখানে:
১. পাপ থেকে পরিশুদ্ধ
বিপদ-আপদের কারণে আল্লাহ তায়ালা আমাদের পাপ ক্ষমা করেন। প্রকৃতিতে পাওয়া সোনার সঙ্গে যেমন মাটি ও নানা ধরনের অপদ্রব্য মিশে থাকে। সোনাকে বিশুদ্ধ করতে কঠিন তাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এরপর যখন তা বেরিয়ে আসে, তখন মাটি ও অন্যান্য অপদ্রব্য থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়।
একইভাবে বিপদের সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহ বিপদকে পাপ থেকে পরিশুদ্ধ হওয়ার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন।
২. আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনা
বিপদের মুখোমুখি হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, আল্লাহর কথা ভুলে ও তার পথ থেকে দূরে সরে গেলে বিপদের মাধ্যমে তিনি আমাদের আবার তার দিকে ফিরিয়ে আনেন। এমন বিপদ ও কষ্ট আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ একটি সতর্কবার্তা, এর মাধ্যমে তিনি বান্দাকে তার দিকে ফিরিয়ে আনেন।
৩. অহংকার দূর করার জন্য
অনেক সময় মানুষ জীবনে সফল হয়ে অহংকারী ও আত্মগর্বিত হয়ে ওঠে। কেউ কর্মক্ষেত্র, পড়াশোনা কিংবা পেশাগত জীবনে সফল হয়ে মনে করতে পারে, এই সাফল্য আমি নিজেই অর্জন করেছি। এভাবে ধীরে ধীরে তার মধ্যে অহংকার জমতে থাকে। এমন অহংকারী মানুষকে বিনয়ী করার জন্য আল্লাহ রহমত হিসেবে তা জীবনে এমন কিছু ঘটাতে পারেন, যা তাকে আবার আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়।
৪. ঈমানের পরীক্ষা
সূরা আনকাবুতের শুরুতে আল্লাহ বলেন, মানুষ কি মনে করে, তারা বলবে, আমরা ঈমান এনেছি—আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না?
অনেক সময় আপনার জীবনে আসা দুঃখ-কষ্ট নিছক একটি পরীক্ষা। এর মাধ্যমে দেখা হয়, আপনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ কি না। এই জীবনটাই একটি পরীক্ষা। তাই যখন আপনার সামনে কোনো পরীক্ষা আসে। মনে করতে হবে এর মাধ্যমে আল্লাহ আপনার ঈমান ও অবস্থানকে আরও উন্নত করতে চান।
৫. পৃথিবীতে কোনো কিছুই নিখুঁত নয়
আমরা অনেক সময় দুঃখ-কষ্টের মুখোমুখি হই, কারণ এই পৃথিবীর জীবন পরিপূর্ণ নয়। জীবনে কোনো সমস্যা দেখা দিলে মনে রাখুন, আপনি যদি পরিপূর্ণ কিছু খুঁজতে থাকেন, তা এই পৃথিবীতে সম্ভব নয়। কারণ, পৃথিবীতে কোনো কিছুই পুরোপুরি নিখুঁত নয়।
৬. পাপের কারণে সাময়িক শাস্তি
অনেক সময় আমাদের পাপের কারণে দুঃখ-কষ্ট আসে। হতে পারে পাপের কারণে আমাদের জন্য সাময়িক শাস্তি হিসেবে আল্লাহ আমাদের বিপদ দেন। আল্লাহ বলেন, তোমাদের ওপর যে বিপদ-আপদ আসে, তা তোমাদের কৃতকর্মের ফল। আর তিনি অনেক কিছু ক্ষমা করে দেন।
অর্থাৎ আপনি যে পরিণতি দেখতে পাচ্ছেন, তা আপনার কাজের ফলাফলের সামান্য একটি অংশ মাত্র।
৭. ঈমানকে আরও শক্তিশালী করার জন্য
আমরা দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে যাই, যাতে আরও শক্তিশালী মুমিন হতে পারি। কোনো ধরনের কষ্টের মধ্য দিয়ে না গেলে মানুষের মধ্যে প্রকৃত উন্নতি বা অগ্রগতি আসে না।
৮. আরও ভালো কিছুর দরজা খুলে দেন
অনেক সময় হঠাৎ করেই আমাদের জীবনে দুঃখ-কষ্ট নেমে আসে। আল্লাহর নির্ধারিত এসব ঘটনার পেছনেও বিশেষ হিকমত থাকতে পারে। অনেক সময় আল্লাহ আপনার জন্য একটি দরজা বন্ধ করে দেন, অথবা এমন কোনো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নেন, যেন আপনি তার চেয়েও ভালো একটি দরজা খুঁজে পান।