জয়পুরহাটে আদিবাসীর লাশ দাফনে বাধা, হামলার অভিযোগ

Obstruction in burial of tribal bodies
ছোটন সরদার ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:১০ পূর্বাহ্ন সারা বাংলা
ছোটন সরদার ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:১০ পূর্বাহ্ন
জয়পুরহাটে আদিবাসীর লাশ দাফনে বাধা, হামলার অভিযোগ
জয়পুরহাট চকমোহন গ্রামের পালী আদিবাসী সমাধি শ্মশানে এক কিশোরের লাশ সমাধি দিতে গিয়ে বাধা ও হামলার অভিযোগ উঠেছে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার মোহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের চকমোহন গ্রামের পালী আদিবাসী সমাধি শ্মশানে এক কিশোরের লাশ সমাধি দিতে গিয়ে বাধা ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদিবাসী সংগঠনের তিন নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁরা জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মঙ্গলবার  ৩১ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,  চকমোহন গ্রামের আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দা পিন্টু পাহানের ১৪ বছর বয়সী ছেলে বিকাশ পাহান গত সোমবার ৩০ আগস্ট মারা যায়। সোমবার দুপুরে তাঁর লাশ পালী আদিবাসী সমাধি শ্মশানে সমাধিতে  নেয়া হয়। এ সময় নূরপুর গ্রামের মুকুল চন্দ্র মণ্ডলের নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে লাশ সমাধিত করতে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 


একপর্যায়ে লাশ সমাধি দিতে আসা আদিবাসীদের ওপর দলবদ্ধভাবে অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।  এতে বাংলাদেশ আদিবাসী সংঘের জয়পুরহাট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদের জয়পুরহাট জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সতিশ পাহান, পালী আদিবাসী সমাধি শ্মশানের সভাপতি অনুকূল কুর্মি এবং সাধারণ সম্পাদক শংকর গুরুতর আহত হন।


ঘটনাটি জানাজানি হলে খবর পেয়ে জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), ভাদসা ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁদের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শেষ পর্যন্ত বিকাশ পাহানের লাশ সমাধি দেওয়া হয়।


আহত সতিশ পাহান, অনুকূল কুর্মি ও শংকরকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয়  আদিবাসী পরিষদের নেতারা। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।