মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মাদ্রাসা॥ অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন, তদন্ত দাবি স্থানীয়দের

Madrasa in Muktijoddha Complex
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:- ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:০২ অপরাহ্ন নির্বাচিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:- ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:০২ অপরাহ্ন
মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মাদ্রাসা॥ অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন,  তদন্ত দাবি স্থানীয়দের

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম, কল্যাণ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য নির্মিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের একটি সরকারি ভবন মাদ্রাসার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে । গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকায় অবস্থিত ভবনটি বর্তমানে মাদ্রাসার কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে ভবনটি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারে কীভাবে গেল, কার অনুমোদনে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তা করা হয়েছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মিলছে না।


স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভবনটি মাদ্রাসার কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি অনুমোদন, বরাদ্দপত্র, ইজারা, ব্যবহার অনুমতি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ব্যবহার নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।


মন্ত্রণালয়ের একাধিক পরিপত্র:-

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ব্যবহারের বিষয়ে পৃথক পরিপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে জেলা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ব্যবহারের জন্য ২০১৬ সালের পরিপত্র, ২০১৮ ও ২০১৯ সালের সংশোধিত পরিপত্র এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের সংশোধিত পরিপত্রের তথ্যও রয়েছে।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি ‘উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন ব্যবহার সংক্রান্ত সংশোধিত পরিপত্র’ প্রকাশের তথ্য রয়েছে।


ফলে ভাওয়াল মির্জাপুরের ভবনটি মাদ্রাসার কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরিপত্রের কোনো ধারা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মুক্তিযোদ্ধাদের ভবন অন্য কাজে ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন:-

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজনের ভাষ্য, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে নির্মিত ভবনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, সভা-সমাবেশ, কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণে সহায়তা করা। সেই স্থাপনা যদি দীর্ঘদিন অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহৃত হয়, তাহলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় এর প্রভাব পড়ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন:-

সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন,সরকারি অর্থে নির্মিত একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের ভবন অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হলে তার জন্য যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন, শর্ত ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে কি না। যদি অনুমোদন ছাড়াই ভবনটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটি সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও তদন্তের বিষয়।


কার সিদ্ধান্তে ভবনটি মাদ্রাসার কাজে গেল?:-

এ ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—ভবনটি মাদ্রাসার কাজে ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছেন? সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বা অন্য কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো লিখিত সিদ্ধান্ত দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে ভবনটির জমির মালিকানা, নির্মাণ ব্যয়, প্রকল্পের উদ্দেশ্য, হস্তান্তরের নথি এবং বর্তমানে কার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—এসব তথ্যও যাচাই করা জরুরি।


তদন্তের দাবি স্থানীয়দের :-

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন নাগরিকরা ভবনটির বর্তমান ব্যবহার নিয়ে সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভবনটি যদি নিয়ম মেনে অনুমোদনের মাধ্যমে মাদ্রাসার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে সেই অনুমোদনের কপি ও শর্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। আর যদি কোনো অনুমোদন ছাড়া ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

তারা আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নির্মিত স্থাপনার উদ্দেশ্য ও ব্যবহার নিয়ে কোনো ধরনের অস্পষ্টতা থাকা উচিত নয়। বিষয়টি প্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা প্রয়োজন।