‘আইফোন কিনতে’ লাখ টাকায় ছেলেসন্তানকে বিক্রি করে দিলেন বাবা

'To buy an iPhone'
অনলাইন ডেস্ক ৩০ আগস্ট ২০২৬ ০৫:৫৪ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ৩০ আগস্ট ২০২৬ ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
‘আইফোন কিনতে’ লাখ টাকায় ছেলেসন্তানকে বিক্রি করে দিলেন বাবা
পটুয়াখালীর দশমিনায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে দেড় বছরের ছেলেসন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে।--সংগৃহীত ছবি

পটুয়াখালীর দশমিনায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে দেড় বছরের ছেলেসন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, আইফোন কেনার জন্য শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

শনিবার (২৯ আগস্ট) উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ ওঠা বাবার নাম মো. মারুফ। তিনি ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে এবং পেশায় কাঠমিস্ত্রি। ঘটনার পর তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার সকালে মারুফ তার মা মাহফুজা বেগমকে ছেলে মুসাকে সাজিয়ে দিতে বলেন। শিশুটিকে নিয়ে কিছুক্ষণ বাইরে ঘুরে আসবেন—এ কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু সময় গড়িয়ে গেলেও শিশুসহ তিনি বাড়িতে ফেরেননি। এতে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তারা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিতে শুরু করেন।

পরে মোবাইলফোনে মারুফের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ হয়। পরিবারের দাবি, তখন মারুফ জানান, দশমিনার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে তিনি শিশুটিকে লিখিতভাবে দিয়ে দিয়েছেন। এর বিনিময়ে এক লাখ টাকা পেয়েছেন।

পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে দেওয়ার পর পাওয়া টাকা দিয়ে মারুফ ঢাকায় গিয়ে একটি পুরোনো আইফোন পরিবর্তন করে নতুন আইফোন কিনেন।

শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, প্রায় চার বছর আগে মারুফ সাভারে থেকে বৃষ্টি নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে প্রায় তিন বছর পর মুসার জন্ম হয়। প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর মারুফও ঢাকায় চলে যান। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যার আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন।

মাহফুজা বেগম বলেন, ‘শনিবার সকালে আমাকে নাতিকে জামা-কাপড় পরিয়ে দিতে বলে মারুফ। সে বলেছিল, মুসাকে নিয়ে বাজারে যাবে। পরে অনেক সময় পার হলেও তারা ফিরে আসেনি। খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারি, নাতিকে অন্যের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে টাকার বিনিময়ে। সেই টাকা দিয়ে আইফোন কিনেছে। আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে চাই।’

এদিকে শিশুটিকে নেওয়া ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মারুফ আগে থেকেই তার কাছে শিশুটিকে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন। তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে থাকলেও কোনো ছেলেসন্তান নেই। এ কারণে আলোচনার পর শিশুটিকে তার কাছে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এ ঘটনায় টাকা লেনদেনের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চার বাবা যার কাছে শিশুটিকে রেখে গেছেন, সেখান থেকে তাকে উদ্ধারের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি শিশুটির বাবাকে ঢাকা থেকে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।’


ওসি আরও বলেন, ‘এখানে টাকা-পয়সা লেনদেন হয়েছে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ এই ছোট শিশুটির বাবা-মায়ের মধ্যে ভালো সম্পর্ক নেই।’