বছর না পেরোতেই ধসে গেল গোদাগাড়ীর সরমংলা ইকো পার্কের ওয়াকওয়ে, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন

Walkway at Saramangla Eco Park in Godagari
মুক্তার হোসেন,গোদাগাড়ী(রাজশাহী): ২১ জুলাই ২০২৬ ০৪:১৬ অপরাহ্ন সারা বাংলা
মুক্তার হোসেন,গোদাগাড়ী(রাজশাহী): ২১ জুলাই ২০২৬ ০৪:১৬ অপরাহ্ন
বছর না পেরোতেই ধসে গেল গোদাগাড়ীর সরমংলা ইকো পার্কের ওয়াকওয়ে, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র সরমংলা খাড়ি এলাকার ইকো পার্কের চিত্র।

এটি কোনো ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত এলাকার দৃশ্য নয়; এটি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র সরমংলা খাড়ি এলাকার ইকো পার্কের চিত্র। বর্ষার প্রথম দফার টানা বৃষ্টিতেই ধসে পড়েছে পার্কটির নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে ও গাইড ওয়ালের একটি বড় অংশ। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে প্রায় ২০ মিটার অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও দেবে যাওয়ায় নির্মাণকাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা।

সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাড়ির পাড়ের প্রায় ২০ মিটারজুড়ে ওয়াকওয়েটি সম্পূর্ণ দেবে গেছে। টানা বৃষ্টির কারণে প্রধান গাইডওয়ালের একটি অংশ ধসে খাড়ির দিকে হেলে পড়েছে, যার ফলে ওপরের টাইলস বসানো ওয়াকওয়েটি ভেঙে ধসে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের আশপাশেও বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে পুরো কাঠামোটিকে খাড়ির গর্ভে বিলীন করার উপক্রম করেছে। লোহার রঙিন নিরাপত্তা রেলিং ও দর্শনার্থীদের বসার বেঞ্চগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় শূন্যে ঝুলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) সরমংলা খাড়ি এলাকাকে একটি দৃষ্টিনন্দন ইকো পার্ক হিসেবে গড়ে তোলে। পদ্মা নদী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি এনে খাড়িতে ফেলার পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য প্রায় এক বছর আগে খাড়ির পাশে এই গাইডওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়। তবে এই কাজের জন্য আলাদা কোনো বাজেট বা বরাদ্দ ছিল না। বিএমডিএর একটি পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্পের আওতায় কাজ পাওয়া রাজশাহীর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্তভাবে এই ওয়াকওয়ে নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এক বছর আগে এই নির্মাণকাজটি সম্পন্ন হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারী কাঠামো নির্মাণের আগে রোলার দিয়ে মাটি যেভাবে শক্ত (কম্প্যাক্ট) করার নিয়ম ছিল, ঠিকাদার তা না করে আলগা মাটির ওপর তড়িঘড়ি করে ইট বিছিয়ে কাজ শেষ করেছে। খাড়ির পাড় রক্ষায় যেখানে শক্তিশালী রিটেইনিং ওয়াল বা আরসিসি পাইলিংয়ের প্রয়োজন ছিল, সেখানে তা করা হয়নি। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং টেকসইহীন ও জোড়াতালির কাজের কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে সামান্য বৃষ্টিতেই এটি ধসে গেছে।

এ বিষয়ে বিএমডিএর গোদাগাড়ী জোন-১-এর সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ সরকার বলেন, "টানা বৃষ্টির কারণে মাটির নিচের অংশ নরম হয়ে গাইডওয়ালটি কিছুটা হেলে পড়েছে এবং ওয়াকওয়ে দেবে গেছে। যেহেতু কাজের এখনো জামানতের মেয়াদ রয়েছে, তাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত এটি সংস্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই তারা নিজস্ব দায়িত্বে এটি মেরামত করে দেবে।"