হারানো ঐতিহ্য ফিরছে রাজশাহী চিড়িয়াখানায়, আসছে নতুন পশুপাখি

Lost tradition is returning to Rajshahi Zoo
আবুল কালাম আজাদ , রাজশাহী:- ২৮ আগস্ট ২০২৬ ০৫:৩৮ অপরাহ্ন নির্বাচিত সংবাদ
আবুল কালাম আজাদ , রাজশাহী:- ২৮ আগস্ট ২০২৬ ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
হারানো ঐতিহ্য ফিরছে রাজশাহী চিড়িয়াখানায়, আসছে নতুন পশুপাখি
ছবি - বিজয় বাংলা

একসময় বাঘ, সিংহ, ভালুক, হরিণসহ নানা প্রজাতির পশুপাখির বিচরণে মুখর ছিল রাজশাহীর কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা। সময়ের সঙ্গে সেই জৌলুস অনেকটাই হারিয়েছে। ফাঁকা পড়ে থাকা খাঁচা আর হাতেগোনা কিছু প্রাণী নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দর্শনার্থীদের হতাশা ছিল। এবার সেই হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নতুন পশুপাখি সংযোজন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 


এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. শাহজামান খান। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ দল চিড়িয়াখানাটির ফিজিবিলিটি স্টাডি করবে। সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আধুনিক, আকর্ষণীয় ও দর্শনার্থীবান্ধব চিড়িয়াখানা গড়ে তোলার পরবর্তী পরিকল্পনা নেওয়া হবে। 


পরিদর্শনকালে তাঁরা চিড়িয়াখানার বিভিন্ন অংশ, পশুপাখির খাঁচা ও বিদ্যমান অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে নতুন প্রাণী সংযোজন, খাঁচা ও আবাসস্থলের উন্নয়ন, দর্শনার্থীদের সুবিধা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

প্রায় ৩৩ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই উদ্যান ও চিড়িয়াখানার কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭২ সালে। দীর্ঘ সময় এটি রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯৬ সাল থেকে এটি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে। 


একসময় এ চিড়িয়াখানায় বাঘ, সিংহ, উট, ভালুক, হায়েনা, গাধা, হরিণ, অজগর, ময়ূরসহ বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি ছিল। কিন্তু নানা সময়ে প্রাণী কমে যাওয়ায় অনেক খাঁচাই এখন ফাঁকা পড়ে আছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবকাঠামো ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হলেও প্রাণীর বৈচিত্র্য কমে যাওয়ায় চিড়িয়াখানাটির মূল আকর্ষণ অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়ে। 


এরই মধ্যে চিড়িয়াখানাটিকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা সামনে এসেছে। গত জুলাইয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করে এটিকে আধুনিক, নান্দনিক ও আন্তর্জাতিক মানের সাফারি পার্কে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই এবং পরে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কথাও বলেন। পাশাপাশি অতীতে চিড়িয়াখানা থেকে প্রাণী স্থানান্তর বা হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তদন্তের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। 


রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নগরবাসী রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। নাগরিকদের এই দাবির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কাছে তুলে ধরা হয়েছে। 

এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিমন্ত্রী চিড়িয়াখানাটি পরিদর্শন করেছেন এবং এবার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসেছেন।

তিনি বলেন, নতুন পশুপাখি সংযোজনের পাশাপাশি আধুনিক অবকাঠামো ও দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে চিড়িয়াখানাটিকে তার পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে নেওয়াই লক্ষ্য।


প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, রাসিক প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চিড়িয়াখানায় পশুপাখি সংযোজন ও আধুনিকায়নের বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি টিম নিয়ে চিড়িয়াখানাটি পরিদর্শন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের টিম ফিজিবিলিটি স্টাডি করবে। স্টাডির ভিত্তিতে চিড়িয়াখানাটি কীভাবে সাজালে আরও আকর্ষণীয়, আধুনিক ও দর্শনার্থীবান্ধব হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হবে। বিশ্বের আধুনিক চিড়িয়াখানাগুলোর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার আদলে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানাকে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।” 


এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে চিড়িয়াখানার সৌন্দর্য ও বিনোদন সুবিধা বাড়াতে ওয়াচ টাওয়ার, শিশুদের খেলার জোন, ইভেন্ট টেন্ট ও ঝুলন্ত সেতুসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছিল রাজশাহী সিটি করপোরেশন। 


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফিজিবিলিটি স্টাডির পর প্রাণী সংযোজনের পাশাপাশি প্রাণীদের উপযোগী আবাসস্থল, নিরাপদ খাঁচা, দর্শনার্থীদের চলাচলের ব্যবস্থা, বিনোদন ও শিক্ষামূলক সুবিধা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা করা গেলে দীর্ঘদিনের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে পারে রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা।


পরিদর্শনকালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) ড. মো. বজলুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. সফিকুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের পরিচালক ড. আনন্দ কুমার অধিকারী, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈনসহ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।