পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে ভেকু দিয়ে বালি উত্তোলনের দায়ে ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কাজলদিঘী ইউনিয়নের কালিয়াগঞ্জ এলাকায় করতোয়া নদী থেকে অবৈধভাবে ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন ব্যবহার করে বালি উত্তোলনের দায়ে মোহাম্মদ শামীম হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ৭০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও আদায় করা হয়েছে।
বুধবার (৩ মে) বিকেলে বোদা উপজেলার কাজলদিঘী ইউনিয়নের কালিয়াগঞ্জ এলাকায় করতোয়া নদীর তীরে অবৈধ বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা ও আইসিটি শাখা) মোহাম্মদ আসিফ আলী। এসময় পুলিশের একটি দল ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে সুনির্দিষ্টভাবে জানা গেছে যে অভিযুক্ত শামীম হোসেন কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ এলাকায় করতোয়া নদীর তলদেশ থেকে ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে অবৈধ উপায়ে বালি উত্তোলন করে আসছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে আকস্মিক অভিযান চালালে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (২০২৩ সংশোধিত) এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী এই নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে বালি উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত অবৈধ ভেকুটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জব্দ করার পাশাপাশি জরিমানার সম্পূর্ণ অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে নগদ আদায় করা হয়।
প্রাকৃতিক সম্পদ চুরি ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে অঞ্চলগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত তদারকি ব্যবস্থা চালু রাখা এখন সময়ের বড় দাবি। অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসিফ আলী গণমাধ্যমকে জানান যে নদীর তীরে বা গভীর তলদেশে অবৈধ উপায়ে বালি উত্তোলন ও পরিবহন করা দেশের প্রচলিত আইনে একটি মারাত্মক ও কঠোরভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আরও উল্লেখ করেন যে আইনি শুনানির সময় অভিযুক্ত শামীম নিজের মারাত্মক অপরাধ ও ভুল স্বীকার করে প্রশাসনের নিকট লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। স্থানীয় নদী ও জনস্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী দিনগুলোতেও এই ধরনের বিশেষ তদারকি ও শাস্তিমূলক টহল অভিযান অত্যন্ত জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।