বরগুনায় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

Bodies of mother and two daughters recovered from Dakbungalow
অনলাইন ডেস্ক ০৩ জুন ২০২৬ ০৯:০০ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ০৩ জুন ২০২৬ ০৯:০০ অপরাহ্ন
বরগুনায় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

বরগুনার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি আলাদা কক্ষ থেকে মা ও তার দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- বরগুনা পৌরশহরের কালিবাড়ী এলাকার দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী ইতি রাণী (৩৪) এবং তাঁদের দুই মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১২) ও অনুরাধা বিশ্বাস (৩)। ইতি রাণী ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই মাস আগে ইতি রাণী ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব নেন। প্রতিদিন সকাল ৯টায় কাজে এলেও বুধবার বেলা ১১টার দিকে দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। তৃতীয় তলার একটি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে অন্য কর্মীরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি কক্ষ থেকে বড় মেয়ে আরাধার এবং অপর কক্ষ থেকে মা ইতি রাণী ও ছোট মেয়ে অনুরাধার মরদেহ উদ্ধার করে।

ইতি রাণীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, সকাল ৭টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার আগে স্ত্রীকে রান্নার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি নিরামিষ খাওয়ার কথা বলেন। সেই অনুযায়ী বাজার করে দিয়ে বের হন। সাড়ে১২টার দিকে বাসায় ফিরে ঘরে তালা দেখতে পান। পাশের বাড়িতে বোনের কাছে যাওয়ার কথা বলেছিলেন ইতি রাণী। কেন ডাকবাংলোয় এসেছিলেন তা তিনি বলতে পারেননি।

বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, সাধারণত ৯টার দিকে ইতি রাণী কাজে আসতেন। কিন্তু আজ ১১টার দিকে দুই মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। ডাকবাংলোর সর্বত্র সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। পুলিশ ও আমরা ইতোমধ্যে ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে- মেয়েদের হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, বড় মেয়ের মরদেহ পাওয়া কক্ষটি খোলা ছিল। ভেতর থেকে বন্ধ অপর কক্ষ থেকে মা ও ছোট মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বড় মেয়ের কক্ষে পাঁচটি ঘুমের ওষুধ ও পানি পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- পূর্বপরিকল্পিতভাবে মা আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে ভিন্ন কোনো কারণ আছে কি-না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


এসআইএল/বিবিএন