সরকারের মন্ত্রিসভায় হঠাৎ করেই বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া, সম্মান রক্ষায় পদত্যাগ শুরু

বিশেষ প্রতিনিধি :- ০১ জুন ২০২৬ ০৮:০৮ অপরাহ্ন জাতীয়
বিশেষ প্রতিনিধি :- ০১ জুন ২০২৬ ০৮:০৮ অপরাহ্ন
সরকারের মন্ত্রিসভায় হঠাৎ করেই বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া, সম্মান রক্ষায় পদত্যাগ শুরু
--সংগৃহীত ছবি

সরকারের মন্ত্রিসভায় হঠাৎ করেই বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। অন্যদিকে সম্মান বাঁচাতে আগেভাগেই মন্ত্রী পর্যায়ের এমপিরা পদত্যাগ করতে শুরু করেছে। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের রহস্যময় দীর্ঘমেয়াদী ছুটি এবং অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দুটি ঘটনাতেই দৃশ্যত ‘অসুস্থতা’ বা ব্যক্তিগত কারণের কথা সামনে এলেও, এর নেপথ্যে গভীর কোনো অভ্যন্তরীণ বা ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ থাকতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব খলিলুর রহমান, যিনি রাজনৈতিক মহলে ‘রজার খলিল’ নামে পরিচিত, হঠাৎ করেই ‘আমেরিকান কোটায়’ এক বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ছুটিতে গেছেন। রাষ্ট্রের একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে দেশে-বিদেশে সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে। এরপরও এমন গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পূর্ব কোনো সুস্পষ্ট আভাস ছাড়া হঠাৎ দীর্ঘমেয়াদী ছুটি নেওয়ার বিষয়টি কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে কতটা স্বাভাবিক, তা নিয়ে সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ঘটনাটি নিছকই কোনো স্বাস্থ্যগত কারণ নয়; বরং এর পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক চাপ বা অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন লুকিয়ে থাকতে পারে যা সাধারণের দৃষ্টির অগোচরে রাখা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ছুটির আলোচনার মধ্যেই সোমবার, ১ জুন ২০২৬ তারিখে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন এবং এর ফলে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই স্বার্থেই তিনি পদ থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন। ১ জুন তারিখে জমা দেওয়ার পর পরই তাঁর এই আবেদনটি “গৃহীত হলো” স্বাক্ষরের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদনও পেয়েছে।

রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক বছরের জন্য দূরে সরে যাওয়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর আকস্মিক পদত্যাগের ঘটনা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। একই সময়ে মন্ত্রিসভায় এই দুটি বড় পরিবর্তনের পেছনে পর্দার আড়ালে বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সমীকরণ কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  একই সঙ্গে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পরবর্তীতে কে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।