১২ এপ্রিল বিড়ালদহের প্রতিরোধ যুদ্ধ- ১৯৭১

The Cattlemen's Resistance War - 1971
ওয়ালিউর রহমান বাবু ১১ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৪ অপরাহ্ন মতামত
ওয়ালিউর রহমান বাবু ১১ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৪ অপরাহ্ন
১২ এপ্রিল বিড়ালদহের প্রতিরোধ যুদ্ধ- ১৯৭১
১২ এপ্রিল বিড়ালদহের প্রতিরোধ যুদ্ধ- ১৯৭১

১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে স্বাধীনতাকামী প্রতিরোধ যোদ্ধা ও গণ মানুষের যৌথ প্রতিরোধে  পাকিস্তানি সৈন্যরা রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এপ্রিলের মাঝামাঝি রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টের পতনের মুহুত্বে বিদেশী বেতার যানায় ঢাকা থেকে আসা দুই ডিভিশন পাকিস্তানি সৈন্যরা আটিলারি ও জঙ্গী বিমানের সহযোগিতায় আরিচা ঘাট পার হয়ে পাবনার নগর বাড়ির দিকে আসছে। রাজশাহী নগরীর প্রতিরোধ যুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া নওগাঁ  ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস্ ( ইপিআর) এর ৭ নং উইং থেকে আসা ক্যাপ্টেন ( মুক্তিুদ্ধের সময় ৭ নং সেক্টরের সাব সেক্টর ৪ এর সেক্টর কমাণ্ডার মেজর, অবঃ বিগ্রেডিয়ার জেনারেল গিয়াস উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বীর উত্তম) এর নির্দেশে রাজশাহী নগরীর প্রতিরোধ যুদ্ধে ভূমিকা রাখা চারঘাট থানার মীরগঞ্জ বিওপির নায়েক সুবেদার সিরাজ উদ্দীন লস্কর সাথে থাকা সরদহ আইয়ুব ক্যাডেট কলেজের অ্যাডযুটেন্ট ক্যাপ্টেন (মেজর) রশিদ, অধ্যাপক আবুবক্কর সিদ্দিক ও ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস্ এর কয়েকজন সৈনিক সহ চারজন ছাত্র গাইডার নিয়ে রাজশাহী নগরীর আলুপট্টি থেকে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মির্জা জাকারিয়ার সহযোগিতায় পাওয়া একটি বাসে কখনও প্রধান রাস্তা কখনও গ্রামের বাস্তা দিয়ে পাবনা পৌছে শুনেন পাকিস্তানি সৈন্যরা এসে গেছেন পাবনা অয়াবদার কাছে প্রতিরোধ গোড়ে তুলে সরে গেলে পাকিস্তানি সৈন্যরা তাদের সম্পর্কে জেনে ফেলে।

পরের দিন সকালে স্থানীয় লোকজন সহযোগিতা করে তর্ক করতে থাকলে তিনি তাদের কিছু না বলে গাড়ী চালককে অস্ত্র গোলাবারুদের জন্য রাজশাহী পাঠান কিন্তু কিন্তু তিনি ফিরে না গেলে সুবেদার মুবাস্বের এর সাথে আলোচনা করে মুলাডুলি রেলগেটে রেল ওয়াগন দিয়ে ব্যারিকেড দেয়ার পর ক্যাপ্টিন রশিদ (মেজর) ও অধ্যাপক আবুবক্কর সিদ্দিক  কে জনবল অস্ত্র গোলাবারূদ নিয়ে যেতে রাজশাহী তে আসতে অনুরোধ করলে তারা রাজশাহীর দিকে রওনা হন। পাকিস্তানি সৈন্যরা গুলি করতে থাকলে তিনি সংঙ্গি দের অ্যাকশন করতে নিষেধ করে পেছনে সরে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় আবু বক্কর একজনের বিশ্বাসঘাতকতায় পাকিস্তানি সৈন্যরা বাগানে সেল্টার নেয়া হাবিলদার এমদাদ, কম্পানি ক্লার্ক মফিজ উদ্দীন কে হত্যা করে নাইট সুবেদার সিরাজ উদ্দীন লস্কর এ সময় পেছনে সবে নাটোর হয়ে রাজশাহীর পুঠিয়ার বিড়ালদহে লোহার ব্রিজকে মাঝখানে রেখে উত্তর-দক্ষিণে প্রতিরোধ গড়ে তুল্লে গ্রাম বাসিরা ট্রেন্স খুঁড়ে রান্না ও সেল্টারের ব্যবস্থা করে সহযোগিতা দেয়।

দুপুর ১ টা। পাকিস্তানি সৈন্যরা আসতে থাকলে গ্রামবাসীরা পালাতে থাকে । প্রতিরোধ যোদ্ধা নজরুল ইসলাম (বীরমুক্তিযোদ্ধা) গ্রামবাসীর অনুরোধে অ্যাকশন না করে পরিস্থিতি দেখতে থাকেন তার আধা মাইল পেছনে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অবস্থান। গাড়ী থেকে নেমে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক অফিসার দূরবীন দিয়ে সব কিছু দেখে তার লাল পতাকার সংকেতে পাকিস্তানি সৈন্যরা এগুতে থাকলে তিনি সঙ্গী আজিজ,কাদের ও অন্যান্যদের নিয়ে ট্রেন্সে নেমে অ্যাকশন করতেই অফিসার টি “মারগায়া” বলে রাস্তায় পড়ে গেল নজরুল ইসলাম অ্যাকশন বন্ধ করে সঙ্গীদের নিয়ে একটি জায়গায় সেল্টার নেন। পাকিস্তানি সৈন্যরা গ্রামে আগুন দিয়ে আতাউর রহমান সহ কয়েক জন কে হত্যা করে। তিনি এই সময় সঙ্গীদের নিয়ে মূল প্রতিরোধ বাহিনীর সাথে যুক্তহোন। প্রতিরোধ যোদ্ধা একে এম জাহাঙ্গীর (বীর মুক্তিযোদ্ধা ) ইউওটিসির ট্রেনিংনেয়া ছাত্র, সেচ্ছাসেবক ও গ্রাম বাসীদের নিয়ে প্রতিরোধ গোড়ে তোলার পর দুইটি ৩” মর্টার পেয়ে নায়েক সুবেদার সিরাজ উদ্দীন লস্কর সেগুলো  নির্দিষ্ট জায়গায় বসানোর নির্দেশ দিয়ে দেখেন সাত আট গজ দুরে পাকিস্তানি সৈন্যরা অবস্থান করছে। তিনি দৌড়ে অ্যাডভান্স করলে পাকিস্তানি সৈন্যরা পেছনে অবস্থান নেয়। 

বিকেল ৪ টার দিকে কাছ থেকে গুলি আসতে থাকলে তিনি দৌড়ে সঙ্গী দের নিয়ে আবার দৌড়ে অ্যাডভান্সকরতেই পাকিস্তানি সৈন্যরা  পালাতে থাকে । এখানে সেখানে পড়তে থাকে তাদের মৃত দেহ । তিনি ব্রিজের উত্তরে এবং সুবেদার মোবাস্বের দক্ষিণে নেতৃত্ব দিতে থাকেন। পাকিস্তানি সৈন্যদের পরাজয়ের মুহুর্তে অস্ত্র সংকটে ল্যান্স নায়েক মনোহর আলী কে অস্ত্র গোলা বারুদ নিতে রাজশাহী নগরীতে পাঠানো হয়। বিকাল ৫ টায় পাকিস্তানি সৈন্যদের তীব্র আক্রমণে প্রতিরোধ যোদ্ধারা নোয়াপড়ার নন্দনপুরে এবং সরদহ পুলিশ একাডেমির দিকে চলে যায়। কিন্তু কোন সহযোগিতা না পেয়ে সংকটে পড়ে। পাকিস্তানি সৈন্যরা আগুন দিয়ে হত্যা কাণ্ড চলাতে থাকে। ভাড়রা গ্রামে আট জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয় শহিদ হলেন পরাণ মণ্ডল, আব্দুল গফুর, জনাব আলী, মাই পাড়া বিড়ালদহের জামেলা বিবি আফাজ উদ্দীন মেরজান, হযরত আলী, নাছির মণ্ডল, আলিমুল হক, বাহার মেধা, কাছের প্রামাণিক। রাজশাহী জেলা সদর থেকে অস্ত্র গোলাবারুদ নিয়ে অ্যাকশন স্থলে পৌছানোর সময় শহিদ হন লেন্স নায়েক মনোহর আলী।১৩ এপ্রিল ভোরে গ্রামবাসীরা পাকিস্তানি সৈন্যদের স্বাধীনতাকামী প্রতিরোধ যোদ্ধাভেবে অবাঙালি পাড়ায় দবির সরকারের বাড়িতে গেলে তার গ্রামবাসীদের হত্যা করে বেচেঁ যান দৈমুদ্দিন ও রঘুরামপুরের মুনছের। 

পাকিস্তানি সৈন্যরা চারঘাট সরদহ ও রাজশাহী জেলা সদরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। নায়েক সুবেদার সিরাজ উদ্দীন লস্কর ঝুকি নিয়ে বেলপুকুরে চলে আসেন   এখানে হাবিলদার আকবর সহ ১২জন এবং চারঘাটে ৪ সঙ্গি সহ অধ্যাপক আবু বক্কর সিদ্দিক শহিদ হন। ক্যাপ্টেন রশিদ সরদহ ছেড়ে চর আঞ্চল এ চলে যান। নায়েক সুবেদার রাজশাহী জেলা সদরের দিকে আসতে থাকেন। 

লেখক : তথ্য সংগ্রাহক