রাজশাহী আসছে না জ্বালানি তেলের ওয়াগন, খরচ বেড়ে তিনগুণ
একমাস ধরে খুলনা থেকে রাজশাহীতে রেলওয়ের ওয়াগনে জালানি তেল আসছে না। আগে ওয়াগনে আসা তেল রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন এলাকার ডিপো থেকেই নিতে পারতেন ফিলিং স্টেশনের মালিকেরা। এখন এখানে তেল না থাকায় তাদের সড়কপথে তেল আনতে হচ্ছে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে। এতে তাদের খরচ প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, জালানি তেলের সংকটের কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) খুলনার দৌলতপুর ডিপো থেকে আর তেল দিচ্ছে না। তাই তারাও তেল আনছেন না। তবে ভারত সরবরাহ করলে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে আবারও রেলপথে তেল রাজশাহী আনা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েলের ডিপো রয়েছে। রেলপথে ওয়াগনে করে আসা তেল এখানেই মজুদ করা হয়। পরে এখান থেকেই রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর ফিলিং স্টেশনের মালিকেরা গাড়িতে করে তেল নিয়ে যান। কিন্তু ডিপোগুলোতে প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে কোনো তেল নেই। কবে ডিপোগুলোতে আবার তেল আসবে তা তিনটি প্রতিষ্ঠানের কেউ জানাতে পারছেন না।
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হাটগাঙ্গোপাড়ায় অবস্থিত মেসার্স গাঙ্গোপাড়া ফিলিং স্টেশনের মালিক সারোয়ার জাহান সবুর জানান, ওয়াগনে তেল এলে তারা রেল স্টেশন লাগোয়া ডিপো থেকেই নিয়ে যেতেন। এতে তাদের খরচ কম হতো। এখন তেলবাহী লরিতে করে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে সড়কপথে তেল আনতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়েছে।
পাম্প মালিকেরা জানান, সড়কপথে বেল পরিবহনে খরচ প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। এতে তেল বিক্রি করে লাভ একেবারেই কমে গেছে। তারা আবারও খুলনার দৌলতপুর ডিপো থেকে তেল সরবরাহ করার দাবি জানিয়েছেন।
পদ্মা অয়েল কোম্পানি পিএলসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আগে পাম্পগুলোতে যে তেল সরবরাহ করা হতো, এখনও প্রায় কাছাকাছি পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে। সে কারণে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এই সংকটের কারণে বিপিসি দৌলতপুর থেকে তেল দিতে পারছে না। আমরাও আর ওয়াগনের সুবিধাটা কাজে লাগাতে পারছি না। এখন ডিলারদের তিনগুণ ব্যয়ে সড়কপথে তেল আনতে হচ্ছে।’
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘বিপিসি সরবরাহ দিচ্ছে না বলেই খুলনা থেকে রেলপথে তেল আসছে না। তবে বিপিসির সঙ্গে ভারতের আলাপ হচ্ছে। দিনাজপুরের পার্বতীপুর দিয়ে ভারত তেল দেবে। সেটি হলে পার্বতীপুর থেকে ওয়াগনে করে তেল আনা হবে। তখন বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের ডিলাররা সুবিধা পাবে।