সাংবাদিকের আবেগঘন পোস্টে রামেক হাসপাতালের চিকিৎসার ভয়াবহ চিত্র

Horrific picture of treatment at Ramech Hospital
আবুল কালাম আজাদ:- ১২ মার্চ ২০২৬ ০৯:০৩ অপরাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ:- ১২ মার্চ ২০২৬ ০৯:০৩ অপরাহ্ন
সাংবাদিকের আবেগঘন পোস্টে  রামেক হাসপাতালের চিকিৎসার ভয়াবহ চিত্র

এখানে কোন ডাক্তার নেই সব কোম্পাউন্ডার। এরা আমাকে ভালো ওষুধ দিছে না, আমাকে বাড়ি নিয়ে চল। মৃত্যুর আগে মা এই একটা কথায় বলছিল।

কথা গুলো নিজ ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিক আলামিন বিশ্বাস।তার আবেগ ঘন পোস্টে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

তার দেয়া পোস্টটি হুবহ তুলে ধরা হলো:-

মাকে নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় আনুমানিক ১টার দিকে। যেয়ে দেখি মায়ের আগে আরও বেশ কিছু রোগী চিকিৎসার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছে। কিন্তু ইন্টার্নি চিকিৎসক ব্যস্ত ফেইসবুক ও রিলস নিয়ে। কিছুক্ষণ পরপর পাশের ব্যক্তিকে একটি করে ওষুধের নাম বলছেন আর সেটা তিনি লিখে দিচ্ছেন। এর মাঝে মায়ের অক্সিজেন লেভেল অনেকটা কমে গেছে কিন্তু ডাক্তার সাহেবের সাথে কথা বলার কোন সুযোগ হয়ে উঠছে আর বললেও তা তিনি কর্ণপাত করছেন। আমি একটু উত্তেজিত হয়ে বললে সে ফোনটি রেখে কিছু ওষুধ লিখে দেন এবং ইসিজি করার পরামর্শ দেন।  কিন্তু হাস্পাতালে ইসিজি করার মতো কেউ নেই। একজন নার্স বসে আছে বললে তিনি বলেন এগুলো আমাদের কাজ না এগুলোর জন্য খালা আছে অপেক্ষা করেন কিছুক্ষনের মধ্যে চলে আসবে। আর মাঝে মায়ের অবস্থা খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে, তারা আবার তাদের চিরকুটে লিখে দেন অক্সিজেন মাক্স নিয়ে আসার জন্য। যেটা আনতে আনতে মায়ের অবস্থা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে আমি তাদের অনুরোধ করি আপনাদের কাছে থাকলে দেন আমাদেরটা আনতে গেছে ওটা আপনি রেখে দিয়েন, কয়েকবার বলার পরে নার্স সেটা দিলেন কিন্তু অক্সিজেন দেওয়ার লাইন নেই আমাদের খুঁজে নিতে বললেন কোথায় অক্সিজেন দেওয়া যাবেবসেই যায়গা খুঁজে নিতে। এরই মাঝে এক ভাইকে পেলাম যার বাসা দূর্গাপুর তিনিও একজন নার্স, তাকে পরিচয় দিয়ে অনুরোধ করলে সে আমাকে তার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে সহযোগিতা করতে। এক পর্যায়ে তিনি দুইটা টেবিলের গ্যাপে ট্রলি রেখে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন আর যেকোনো সমস্যা তাকে জানাতে বললেন। এরই মাঝে আরও অবনতি হলে আনুমানিক ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ৩৬নং ওয়ার্ড থেকে ৩২নং ওয়ার্ডে রেফাড করলেন। ৩২ এ গিয়ে আবারো পরলাম বিপাকে! চিকিৎসক বললেন দেখছেন না সেহরির সময় এখন সেহরি খাচ্ছি বাইরে অপেক্ষা করেন ডেকে নেব। এভাবেই ঘড়ির কাটায় তখন ৫টা বেজে ২০ মিনিট নামমাত্র চিকিৎসা শুরু হলো। যেহেতু মায়ের অবস্থা ভালো না অক্সিজেন চলছে তাই যেখানে সেখানে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। একপর্যায়ে পুরুষ ওয়ার্ডেই বাধ্য হলাম নিতে তখন বাজে ৫টা ৫৫মিনিট। সকালে ডাক্তার আসলেন মাকে দেখে রক্তের কয়েকটি পরিক্ষা করতে দিলেন মেডিকেল থেকেই।  পরীক্ষার জন্য তাদের দেওয়া যায়গায় গেলে তারা বলেন দুপুর ২টার আগে রক্ত নেওয়া সম্ভব হবে না। ২টার দিকে টাকা জমা দিলে তারা রক্ত সংগ্রহের জন্য একটি টিউব দিয়ে রক্ত নিয়ে আসতে বললে নার্সের কাছে এই রক্তের জন্য যাওয়া লাগলো ৩ বার, পরে রক্ত নিয়ে ল্যাবে দিয়ে আসলে তারা সন্ধ্যা ৭টায় রিপোর্ট দিবে বলে জানান।  ৭টায় রিপোর্ট আনতে গেলে তারা জানায় কাজ চলছে আরও ৩০মিনিট লাগবে।  এরই মাঝে মায়ের বুক ব্যাথা শুরু হলে স্যালাইনের মধ্যে বেশ কিছু ইঞ্জেকশন ঢুকিয়ে মায়ের শরীরে প্রবাশ করানোর ১ মিনিটের মাঝেই ঢুলে পরেন মৃত্যুর দিকে। এটাই হচ্ছে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা।  এটাই হচ্ছে আমাদের রামেক হাসপাতাল.....

সর্বশেষ কি কারণে মা মৃত্যুবরণ করলেন সেটাও তারা জানাতে ব্যর্থ হয়ে বলেন প্রেসার নিল হয়ে গেছে।