রাজশাহীতে প্রতারণার অভিযোগে ‘জুলাই যোদ্ধা সনদ ও অবৈধ পত্রিকা প্রকাশ নিয়ে বিতর্ক

Debate over July Fighters' Charter and publication of illegal newspapers
ছোটন সরদার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৫:১২ অপরাহ্ন সারা বাংলা
ছোটন সরদার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৫:১২ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে প্রতারণার অভিযোগে ‘জুলাই যোদ্ধা সনদ ও অবৈধ পত্রিকা প্রকাশ নিয়ে বিতর্ক
রাজশাহী মহানগরীতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ‘জুলাই যোদ্ধা’ সনদ গ্রহণ এবং সরকারি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়াই দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ ও সাংবাদিক পরিচয়পত্র বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

রাজশাহী মহানগরীতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ‘জুলাই যোদ্ধা’ সনদ গ্রহণ এবং সরকারি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়াই দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ ও সাংবাদিক পরিচয়পত্র বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনারের কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে মতিহার থানার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজলা এলাকার বাসিন্দা মো. সবুজ আলী দাবি করেন, বর্তমানে একই এলাকার বাসিন্দা মো. সানোয়ার রহমান (৫২), ওরফে সানোয়ার আরিফ, প্রতারণার মাধ্যমে ‘জুলাই যোদ্ধা’ সনদ নিয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন।

অভিযোগে বলা  হয়, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মতিহার থানার জাহাজঘাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের কয়েকজন তরুণ-যুবকের হামলায় আহত হন সানোয়ার রহমান। তবে অভিযোগকারীর ভাষ্য, সেদিন বিকেল ৫টার মধ্যেই ছাত্র-জনতার দখলে পুরো দেশ ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে রাত ১০টার দিকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিগত সরকারের সময় সানোয়ার রহমান মতিহার থানার এক এসআইয়ের ‘সোর্স’ হিসেবে কাজ করতেন এবং বিভিন্ন সময়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ কারণে ওই হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, আহত হওয়ার ঘটনাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উপস্থাপন করে সনদের জন্য আবেদন করেন সানোয়ার রহমান এবং পরবর্তীতে সনদ ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন। অভিযোগকারী সনদ বাতিল করে প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ‘রাজশাহীর শীর্ষ সংবাদ’ নামে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট পত্রিকার কোনো অনুমোদন বা সরকারি নিবন্ধন না থাকলেও সরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে। কাজলায় অফিসের ঠিকানা উল্লেখ থাকলেও সেখানে কোনো কার্যালয় নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশাদার সাংবাদিক নন। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে মো. সানোয়ার রহমানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে আরএমপি পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান, পিপিএম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক অফিয়া আখতার বলেন, অভিযোগটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।