বদলগাছীতে ছাত্রীদের অশালীন মেসেজের অভিযোগ

স্কুল অবরুদ্ধ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

Complaint of obscene messages from female students
প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ): ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:০৬ অপরাহ্ন সারা বাংলা
প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ): ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:০৬ অপরাহ্ন
স্কুল অবরুদ্ধ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বেগুনজোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ে এক অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বেগুনজোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ে এক অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করে।

অভিযুক্ত পিয়ন সৈকত হোসেন উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের পরমান্দপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দীনের ছেলে। তিনি বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

অভিযোগে জানা যায়, অফিস সহায়ক মো. সৈকত হোসেন অষ্টম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘদিন ধরে অশালীন বার্তা পাঠিয়ে আসছিলেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা বিদ্যালয়টি অবরুদ্ধ করে রাখেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তেজিত জনতার একাংশ অভিযুক্ত অফিস সহায়ককে মারধরও করে।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইশরাত জাহান ছনি, বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান কেটু। তারা বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

অভিযোগের বিষয়ে মো. সৈকত হোসেন বলেন,আমি কোনো অশালীন বার্তা পাঠাইনি। আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে কেউ এসব করেছে, যাতে আমাকে বিপদে ফেলা যায়।

এ বিষয়ে ওসি লুৎফর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশরাত জাহান ছনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।