১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি যে মৃত্যু জাতিকে প্রবলভাবে আলোড়িত করেছিল
শহীদ ড. শামসুজ্জোহা:-
১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা শহীদ হলে জনতার ক্ষোভ দাবানল আকারে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে ঊনসত্তরের আন্দোলন বিস্ফোরণমুখর গণআন্দোলনের আকৃতি পায়। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি দুপুর ২টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হকি ময়দানে পাঁচ হাজার লোকের উপস্থিতিতে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনে দক্ষিণ পাশে সমাধিস্থ করা হয়। এ দিনই ঢাকার ইকবাল হল প্রাঙ্গণেও শহীদ ড. শামসুজ্জোহার গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
শহিদ ছাত্র নূরুল ইসলাম খোকা:-
১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালেই ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে রাজপথে নেমে আসে ছাত্র-জনতা। চলে ২ বার পুলিশ ও সামরিক সৈনিকের গুলি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইনগেটের পরবর্তী গুলির বিস্ফোরণ সোনাদিঘি। সোনাদিঘির পূর্ব পাশে পৌরভবনের ছাদ থেকে ধেয়ে আসা গুলিতে ঘটনা স্থলেই ড. শামসুজ্জোহার পূর্বে প্রথম শহীদ হন রাজশাহী সিটি কলেজের ছাত্র নূরুল ইসলাম। তিনি তখন রাজশাহী সিটি কলেজের ছাত্র ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতা। রাজশাহী সিটি কলেজে পড়ার পূর্বে রাজশাহী সরকারি হাই মাদ্রাসা ও রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র ছিলেন।
শহিদ ছাত্র আব্দুস সাত্তার:-
১৮ ফেব্রুয়ারি একই সময়ে সোনাদিঘির মোড় থেকে ছোঁড়া আরেকটি গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিল রাজশাহী সরকারি হাই মাদ্রাসা (বর্তমান হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) এর ৭ম শ্রেণির ছাত্র আব্দুস সাত্তার। তিনিও ৬ মাস পর ২৪ আগস্ট মৃত্যুর কাছে শেষ আশ্রয় গ্রহণ করে ইতিহাসে বীর শহীদের মর্যাদা পান।