হিলি ট্রাজেডি

সেই অভিশপ্ত রাতের কথা আজও ভুলতে পারেনি হিলিসহ দেশের মানুষ

আবুল কালাম আজাদ:- ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:০৩ অপরাহ্ন মতামত
আবুল কালাম আজাদ:- ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:০৩ অপরাহ্ন
সেই অভিশপ্ত রাতের কথা আজও ভুলতে পারেনি হিলিসহ দেশের মানুষ
সেই অভিশপ্ত রাতের কথা আজও ভুলতে পারেনি হিলিসহ দেশের মানুষ

আজ ১৩ জানুয়ারি। ক্যালেন্ডারের পাতায় দিনটি ফিরে এলেই হিলিবাসীর মনে ভেসে ওঠে এক ভয়াবহ দৃশ্য। দেখতে দেখতে ৩০টি বছর পেরিয়ে গেল, কিন্তু ১৯৯৫ সালের সেই অভিশপ্ত রাতের কথা আজও ভুলতে পারেনি হিলির মানুষ।

​ সেদিন যা ঘটেছিল:-

১৯৯৫ সালের ১৩ জানুয়ারি, শুক্রবার। রাত তখন সোয়া ৯টা। হিলি রেলস্টেশনের ১ নম্বর লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল গোয়ালন্দ থেকে আসা ৫১১ নম্বর লোকাল ট্রেনটি। ঠিক সেই মুহূর্তেই সৈয়দপুর থেকে খুলনাগামী ৭৪৮ নম্বর আন্তঃনগর ‘সীমান্ত এক্সপ্রেস’ একই লাইনে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের ভুলে ঘটে যায় ইতিহাসের এক ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষ। বিকট শব্দে লোকাল ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ দুটি বগি দুমড়েমুচড়ে উঠে যায় আন্তঃনগর ট্রেনের ওপর।

​ হতাহতের চিত্র:-

সরকারি হিসেবে সেই রাতে প্রাণ হারান ২৭ জন, আর আহত হন শতাধিক। তবে স্থানীয়দের মতে, নিহতের সংখ্যা ছিল অর্ধশতাধিক এবং আহতের সংখ্যা দুই শতাধিক। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেও, জানা যায় অনেক পরিবার আজও সেই সহায়তা পায়নি। তদন্তে বেরিয়ে আসে, স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যানের দায়িত্বহীনতাই ছিল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূল কারণ।

প্রত্যক্ষদর্শীর চোখে সেই ভয়াবহ রাত:-

সেদিনের ভয়াবহতা নিয়ে হিলি রেলওয়ে একতা ক্লাবের সভাপতি কামাল হোসেন বলেন,

​“সেদিনের কথা মনে পড়লে আজও শরীর শিউরে ওঠে। বিকট শব্দ শুনে ছুটে গিয়ে দেখি শত শত মানুষের আহাজারি। কারো হাত নেই, কারো পা নেই—ছিন্নভিন্ন দেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এত রক্ত আর এত লাশ আগে কখনো দেখিনি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমরা উদ্ধারকাজ শুরু করি।”

​আজকের কর্মসূচি:-

নিহতদের স্মরণে হিলি রেলওয়ে একতা ক্লাবের উদ্যোগে আজ দিনব্যাপী কালো ব্যাজ ধারণ, আলোচনা সভা এবং রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

​আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেই দুর্ঘটনায় নিহত সকল যাত্রীদের। আল্লাহ তাঁদের জান্নাতবাসী করুন। আমিন।