রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি, আখচাষিদের জন্য থাকছে নতুন বার্তা: এমপি মিলন

Shafiqul Haque Milon
নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৯ অপরাহ্ন নির্বাচিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৯ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি, আখচাষিদের জন্য থাকছে নতুন বার্তা: এমপি মিলন
পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পকির্ত সংসদীয় স্থায়ী কমটির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

গণপ্রজাপতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২০ অক্টোবর রাজশাহীতে আসবেন এবং রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। এ উপলক্ষে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।  রোববার দুপুরে হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পকির্ত সংসদীয় স্থায়ী কমটির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল হক মিলন।

এমপি মিলন জানান, অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে এই সফরের প্রস্তুতি নিতে হলেও রাজশাহীর মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আবেগ কাজ করছে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের কথা বিবেচনা করে আখ ও পাট চাষিদের জন্য তিনি বিশেষ নতুন বার্তা নিয়ে আসবেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তার প্রথম রাজশাহী সফর। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তাঁর এই আগমনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এমপি মিলন। তিনি আরো  বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি জাতিসংঘে গিয়ে গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছে এবং বিগত ১৭ বছর ধরে দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও প্রত্যাশা পূরণের আশা করা হচ্ছে। শিল্পমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য যে দাবিগুলো তুলে ধরা হবে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচলছে বীজ সংরক্ষণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, রাজশাহীতে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড স্থাপন,রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা, একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা ও রাজশাহী নগরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ হিসেবে ঘোষণা করা।

অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকার সময় রাজশাহীর মানুষের জন্য সর্বদা অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং আধুনিক রাজশাহী মহানগরী গঠনে ভূমিকা রেখেছেন বলে এমপি মিলন স্মরণ করেন।

সফরের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময়ের স্বল্পতার কারণে মাইকিং বা বড় ধরনের কোনো প্রচারণা চালানো সম্ভব হয়নি, তবে সাংগঠনিকভাবে সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন যে, রাজশাহীর সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে এক বিশাল ও স্মরণীয় সংবর্ধনা প্রদান করবে।

এরআগে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে মঞ্চ নির্মাণসহ প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি ও অগ্রগতি পরিদর্শন করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক  মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট। এসময়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর উপলক্ষে মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন করেন রাজশাহী রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।