'টুপটুপ' দূর্ঘটনা : উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও শোকের কক্সবাজার

'Tup Tup' accident
আনোয়ার হাসান চৌধুরী, কক্সবাজার : ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩৭ অপরাহ্ন সারা বাংলা
আনোয়ার হাসান চৌধুরী, কক্সবাজার : ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
'টুপটুপ' দূর্ঘটনা : উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও শোকের কক্সবাজার

কক্সবাজার থেকে পুরো দেশ সবখানে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা ও শোক। একটি ঘটনায় তাজা ১০ জনের প্রাণহানি। 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের ইনানি পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্ট আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ ঘটনায় সর্বশেষ আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এনিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।

শনিবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে আরও চারটি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন।

নিহত ১০ জনের মধ্যে সাতজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে অগ্নিকাণ্ডে ছয় পর্যটকের মৃত্যু ও ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিল জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস। সে সময় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।


শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আহত ছয়জনকে জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং দুজনকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি জানান জেলা প্রশাসক।

ওই সময় একই তথ্য জানিয়েছিলেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন।

অন্যদিকে, সিআইডির কক্সবাজারের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছিলেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। রিসোর্টের একটি কক্ষে কয়েকজন আটকা পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

নিহত যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তারা হলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭) এবং চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫), আশুলিয়ার নাসরিন আকতার  মুক্তা (২৮)।

আহত ছয়জন হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সবাই পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।