দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ শিক্ষক দম্পতি আটক॥ ঘটনাস্থলে জব্দতালিকা না করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
রাজশাহীতে দুই হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক স্কুলশিক্ষক দম্পতিকে আটকের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা প্রশংসিত হলেও, ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে জব্দতালিকা (সিজার লিস্ট) প্রস্তুত না করায় জব্দকৃত মাদকের সঠিক পরিমাণ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ধূমজালের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম এলাকার হাইটেক পার্কসংলগ্ন সড়কে এই অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
আটককৃতরা হলেন—রাজশাহী সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. আল আমিন (৪৩) এবং তার স্ত্রী (৩৮), যিনি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত। অভিযানে তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শীর প্রশ্ন ও জনমনে সংশয়
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দুই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা জানানো হলেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী মো. পারভেজ জানান, “রাতে আমরা ঘটনাটি নিজের চোখে দেখেছি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা এসে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা স্ত্রীর একটি ব্যাগের মধ্যে ইয়াবা দেখতে পাই। তবে ঘটনাস্থলে সিজার লিস্ট (জব্দতালিকা) না করে ব্যাগভর্তি মাদকসহ দুজনকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।”
ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে জব্দতালিকা তৈরি না করার বিষয়টি স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণ মানুষের মতে, আইন অনুযায়ী ঘটনাস্থলেই জব্দকৃত আলামতের তালিকা তৈরি করা উচিত ছিল। তা না করায় প্রকৃত মাদকের পরিমাণ নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা ও জনমনে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসনের ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
অভিযানের বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এই অভিযান পরিচালনা করি। আমাদের কাছে তথ্য ছিল বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচার হবে, যার পরিপ্রেক্ষিতে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি ও চেকপোস্ট বসানো হয়।”
তিনি আরও জানান, একটি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাদের আটক করা হয় এবং তল্লাশি চালিয়ে দুই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করে ১৫ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষক দম্পতির মতো একটি দায়িত্বশীল পেশার মানুষের এমন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শামসুল হক। তিনি বলেন, “মোহাম্মদ আল আমিন আমাদের প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক। আপনার মাধ্যমেই এই প্রথম শুনলাম তিনি এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি আমাদের পুরো শিক্ষাঙ্গন ও সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্যেও মাদকবিরোধী অভিযানে স্বচ্ছতা ও ঘটনাস্থলে আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।