জাল টাকার নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইন আত্মসাতের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার

Two people were arrested
নিজস্ব প্রতিনিধি:- ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৫৪ অপরাহ্ন আইন-আদালত
নিজস্ব প্রতিনিধি:- ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৫৪ অপরাহ্ন
জাল টাকার নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইন আত্মসাতের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার
ছবি - কাবিল হোসেন

রাজশাহীর সাহেববাজারে জাল টাকার নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইন আত্মসাতের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় রাজশাহীর জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়েছে। একই কৌশলে বগুড়ার একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎ করা আরেকটি চেইনও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মো. রিয়াজুল ইসলাম ও মো. রোমান। রিয়াজুল ঝালকাঠি সদর উপজেলার উত্তর মারাবাটি গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। তিনি ঢাকার খিলক্ষেত টানপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। রোমান কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার লড়িবাগ গ্রামের আলফু মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকার খিলক্ষেতের জামতলা মোড় এলাকার মা জুয়েলার্সের মালিক।

বুধবার সকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে রাজশাহী নগরের সাহেববাজার এলাকার আশা জুয়েলারি স্টোরে যান এক ব্যক্তি। নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পরিচয় দিয়ে তিনি তাঁর মেজর স্যারের মেয়ের বিয়ের জন্য স্বর্ণের গয়না কেনার কথা বলেন। ওই দিন ৭০০ টাকায় একটি নাকফুল কেনেন তিনি। পাশাপাশি আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন পরে টাকা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান।


গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ১১টার দিকে ওই ব্যক্তি আবার দোকানে যান। দোকানে চেইন না থাকায় পাশের বিশ্বনাথের দোকান থেকে ২২ ক্যারেটের আট আনা এক পয়েন্ট ওজনের একটি চেইন এনে তাঁকে দেওয়া হয়। চেইনটির তখনকার বাজারমূল্য ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এ সময় ওই ব্যক্তি এক হাজার টাকা মূল্যমানের ১১৫টি নতুন নোট দেন। দোকানমালিকের বাবা নোটগুলো যাচাই করতে পাশের দোকানে গেলে সেগুলো জাল বলে শনাক্ত হয়। তিনি ফিরে এসে ওই ব্যক্তিকে আর পাননি। এভাবে জাল নোট দিয়ে চেইনটি নিয়ে পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি।

তিনি জানান, ঘটনার পর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নির্দেশে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ও আরএমপির সিসি ক্যামেরা দল ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিকে শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকার খিলক্ষেত থানার জামতলা মোড় এলাকা থেকে রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ অভিযানে ঢাকার উত্তরা এলাকার এসআরবি-১ সহযোগিতা করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াজুল জানান, রাজশাহী থেকে আত্মসাৎ করা চেইনটি তিনি জামতলা মোড় এলাকার মা জুয়েলার্সের মালিক রোমানের কাছে বিক্রি করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই দোকানে অভিযান চালিয়ে রোমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় রাজশাহীর আশা জুয়েলারি স্টোর থেকে আত্মসাৎ করা চেইনটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, একই কৌশলে গত ৬ অক্টোবর বগুড়ার নিউ মার্কেটের স্বর্ণপট্টিতে অবস্থিত তামান্না জুয়েলার্স থেকে ১ লাখ ২২ হাজার টাকার জাল নোট দিয়ে আট আনা তিন রতি তিন পয়েন্ট ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন আত্মসাৎ করেন রিয়াজুল। বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ওই চেইনটিও উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া রিয়াজুলের কাছ থেকে একটি মুঠোফোন ও নগদ ১৪ হাজার ৯৭২ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজুল একই কৌশলে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতারণায় জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে রংপুরের বদরগঞ্জ থানা ও ঢাকার খিলক্ষেত থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।