এবার আগেভাগেই দেখা দিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা
শরতের নীলাভ আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘের ভেলা। ভেসে ভেসে কোথাও যেন তারা আটকে যাচ্ছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ভুল ভাঙবে, দেখা যাবে শ্বেতশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘার। মেঘেরা ভেসে গিয়ে যেন কাঞ্চনের সঙ্গে জড়াজড়ি করে আছে। প্রতিবছর অক্টোবরে এমন রূপ মেলে ধরলেও এবার সেপ্টেম্বরেই দেখা দিয়েছে ভারতের সিকিম আর নেপাল সীমান্তে অবস্থিত পৃথিবীর তৃতীয় পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য মেলে ধরে কাঞ্চন যেন দুই হাত বাড়িয়ে ডাকছে প্রকৃতিপ্রেমীদের।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৬টা থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দেখা মিলছে কাঞ্চনজঙ্ঘার। তবে সবচেয়ে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারের পাশে মহানন্দা নদীর তীর থেকে। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
প্রতিবছর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে পঞ্চগড় থেকে দেখা মেলে কাঞ্চনজঙ্ঘার। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ভোরের আলো ফুটতেই দূর দিগন্তে বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গটি দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ক্যামেরায় ধারণ করছেন পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য, আবার কেউ মুঠোফোনে ধরে রাখছেন স্মরণীয় মুহূর্ত।
কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা মুগ্ধ। তাদের কাছে এই ভ্রমণ শুধু পাহাড় দেখার অভিজ্ঞতা নয়, বরং প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোরও সুযোগ।
ঢাকার গাজীপুর জেলা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটক সাঈদুর রহমান বলেন, আমরা বন্ধুরা মিলে এখানে এসেছি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা। আকাশ পরিষ্কার থাকায় কাঙ্ক্ষিত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেয়েছি। আমরা অনেক অনেক খুশি।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে পরিবারের সঙ্গে আসা পর্যটক পিংকি বলেন, শুনেছি, অনেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। আলহামদুলিল্লাহ, ভোরের দিকে আমরাও হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। প্রথমে কিছুটা দেখা গেলেও পরে আবার মেঘ ও কুয়াশায় ঢেকে যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য দেখা যায়।
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার পাশাপাশি পর্যটকেরা ঘুরে দেখছেন মহানন্দা নদীর তীর, বিস্তীর্ণ চা-বাগান ও সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। এতে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের আনাগোনাও বাড়ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ থাকে। আকাশ ও আবহাওয়া পরিষ্কার থাকায় আজ কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য দেখা যাচ্ছে। তবে পর্যটকদের অবশ্যই আকাশের অবস্থা খেয়াল করে আসতে হবে। তাহলে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব হবে।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভিন বলেন, শীতের মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা পঞ্চগড়ে বেড়াতে আসেন। একই সঙ্গে অনেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতেও আসেন। পর্যটকদের নির্বিঘ্নে ভ্রমণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।