রাজশাহীতে প্রাইভেট কার সহ ৯৬ মোবাইল ফোন জব্দ,আটক ৫
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মহাসড়কে তল্লাশি চালিয়ে একটি প্রাইভেটকার থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৬টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, এসব ফোন শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে সীমান্তপথে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন বহনে ব্যবহৃত সাদা রঙের প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রেলওয়ে কলোনির জামিল আহমেদ (৩০), একই এলাকার রিয়াদ হাসান রামিন (৩০), পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মধ্য অরনকোলার হোসেন শেখ (৩৬), সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রেলওয়ে কলোনির শুকুর (৩০) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর উপরতলার আজিজুল হক (২৮)।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুজন মিঞা। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ীহাট মোড়ে অবস্থান করছিল। এ সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকারে করে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে আনা মোবাইল ফোন রাজশাহীর দিকে নেওয়া হচ্ছে।
পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নের চাকচাপাল এলাকায় মহাসড়কে অস্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে সন্দেহভাজন প্রাইভেটকারটি সেখানে পৌঁছালে পুলিশ সেটি থামিয়ে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে স্থানীয় দুই ব্যক্তিকে সাক্ষী রেখে গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় গাড়ির সামনের বাম পাশের আসনের পায়ের কাছে থাকা একটি লাল-কালো শপিং ব্যাগ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
তবে ঘটনাস্থলে সব ফোনের মডেল ও পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। জব্দ তালিকায় থাকা কয়েকটি ফোনে দুটি করে IMEI নম্বর পাওয়া গেছে। আবার কিছু ফোন লক থাকায় ঘটনাস্থলে সেগুলোর IMEI নম্বর সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। জব্দ তালিকায় কয়েকটি ফোনের IMEI-সংক্রান্ত তথ্যেও অসংগতি রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে ফোনগুলোর প্রকৃত উৎস, মডেল, IMEI এবং আমদানির বৈধতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয় রয়েছে।
এজাহারে পুলিশ বলেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মোবাইল ফোনগুলোর উৎস সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে পুলিশ দাবি করছে, ফোনগুলো ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা হয়েছিল। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে সেগুলো নেওয়া হচ্ছিল।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া এসব বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া এসব বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে, ফোনগুলো ঠিক কোন সীমান্তপথে, কার মাধ্যমে এবং কীভাবে দেশে প্রবেশ করেছে—এসব বিষয়ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, মোবাইল ফোন আমদানির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বলা হলেও গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে জব্দ তালিকা তৈরি করা হয়। মোবাইল ফোনের পাশাপাশি বহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা ফোনগুলোর মূল্য, শুল্ক-কর ফাঁকির পরিমাণ এবং এগুলো আমদানি ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ফোনগুলোর IMEI যাচাই করে সেগুলো বৈধভাবে নিবন্ধিত কি না, কোনো অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট চালানের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না—তাও খতিয়ে দেখা হবে।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি মো. সুজন মিঞা বলেন, “ভারত থেকে অবৈধভাবে মোবাইল ফোন নিয়ে আসছিলেন তারা। কাগজপত্র না থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিয়মিত মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশের এ অভিযানকে সীমান্তপথে অবৈধভাবে আনা পণ্য পরিবহনের বিরুদ্ধে চলমান তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগেও গোদাগাড়ী এলাকায় মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য পরিবহনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার ও জব্দের ঘটনা ঘটিয়েছে।