রাজশাহীর সেই রেসকোর্স ময়দান থেকে রাজশাহী সাফারি পার্ক

Rajshahi Safari Park
আবুল কালাম আজাদ,রাজশাহী:- ১৪ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ,রাজশাহী:- ১৪ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীর সেই রেসকোর্স ময়দান থেকে রাজশাহী সাফারি পার্ক
রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার প্রাচীন নামই রেসকোর্স ময়দান।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার প্রাচীন নামই  রেসকোর্স ময়দান। এ রেসকোর্স ময়দানই হতে যাচ্ছে সাফারি পার্ক। যা  রাজশাহী মহানগরীর পশ্চিমাঞ্চলে পদ্মার উত্তর পাড়ে শ্রীরামপুরে অবস্থিত। ইতিহাস থেকে জেনে নেয়া যাক এর প্রাচীন থেকে বর্তমান পরিকল্পনার বিবরণ। 

প্রাচীন তথ্য: ব্রিটিশ আমলে এর প্রাথমিক নাম ছিল রেসকোর্স ময়দান। এখানে ঘৌড়দৌড়ের প্রতিযোগিতা।  রেসের পর টমটম দৌড় বা ঘোড়ারগাড়ির দৌড়ও হতো। রেস ও টমটমদৌড় বন্ধ হওয়ার পর রাজশাহীর রেসকোর্স ময়দান দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। পরবর্তীতে ধান, গমসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের আবাদ হতো।

 উদ্যান স্থাপনের  বিবরণ:  ১৯৭২ সালে রাজস্ব বিভাগ হতে অনুমতি প্রাপ্ত ৩২.৭৬ একর এ জমিতে কেন্দ্রীয় উদ্যান স্থাপিত হয় ও ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫শ টাকার ১টি প্রকল্প তৈরি করে টেস্ট রিলিফের টাকায় লেক খনন, সাইট উন্নয়ন ও কিছু বৃক্ষরোপণের ব্যবস্থা করা হয়। মন্ত্রী এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান ‘রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান’ নামে ১৯৭৩ সালের ১৯ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও ১৯৭৩ সালের ২৮ জুলাই উদ্বোধন করেছিলেন। পরবর্তীতে আরো উন্নয়ন করা হয়।


চিড়িয়াখানায় উন্নীতকরণ: উদ্যানের স্থাপনের পর ২টি বানর ছিল। ১৯৭৫ সালের শেষ ভাগে আব্দুর রহিম খানের প্রচেষ্টায় পটুয়াখালির জেলা প্রশাসক আব্দুস সাত্তারের নিকট এক জোড়া হরিণ এনে রাখা হয়েছিল। 

তবে ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩ তারিখে চিড়িয়াখানা আরম্ভ হয়। সম্ভবত ১৯৮৩ সালে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুস সালাম একটি বড় ড্রামে এক জোড়া ঘড়িয়ালের বাচ্চা ছেড়ে দিয়ে চিড়িয়াখানার পত্তন করেন।

মালিকানার পরিবর্তন: উদ্যান ও চিড়িয়াখানটি ছিল জেলা পরিষদ, রাজশাহীর। উন্নয়ন ও সুষ্ঠুভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন জেলা পরিষদের কাছ থেকে প্রকল্পটি কিনে নেয়। ১৯৯৬ সালের ২৬ নভেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী জিল্লুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র মোঃ মিজানুর রহমান মিনুর কাছে প্রকল্পটি হস্তান্তর করেন। 

সাফারি পার্কে উন্নীতকরণের পরিকল্পনা: সম্প্রতি বিভিন্ন জীবজন্তুর হ্রাস পাওয়ার কারণে রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে যায়। এ দুরাবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে সাফারি পার্কে উন্নীতকরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। তাঁর প্রচেষ্টার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখ প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মচারীসহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা পরিদর্শন ও নগর ভবনে সভা করেন। তিনি চিড়িয়াখানাকে আধুনিকায়ন করে সাফারি পার্কে উন্নীতকরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা বলেন।