চিলমারীতে শিক্ষিকার অডিও ফাঁস

‘যে টাকা আনবে সে নম্বর পাবে, যে টাকা আনবে না সে পাবে না’

"The one who brings the money will get the number, the one who doesn't bring the money won't get it."
অনলাইন ডেস্ক ২০ মে ২০২৬ ০১:৫৮ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ২০ মে ২০২৬ ০১:৫৮ অপরাহ্ন
‘যে টাকা আনবে সে নম্বর পাবে, যে টাকা আনবে না সে পাবে না’
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় থানাহাট এইউ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে এসএসসি ভোকেশনালের ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর প্রদানে অনিয়ম ও টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখায় ট্রেড ইন্সট্রাক্টর মোর্শেদা বেগম পরীক্ষার কক্ষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘টাকা দিলে নম্বর পাওয়া যাবে, না দিলে নম্বর পাওয়া যাবে না।’ এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ওই অডিওতে শোনা যায়, ব্যবহারিক পরীক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মোর্শেদা বেগম শিক্ষার্থীদেরকে বলেছেন, ‘যে টাকা আনবে সে নম্বর পাবে, আর যে টাকা আনবে না সে নম্বর পাবে না। এখন তোমরা গুল্লি করো, হাইকোর্ট করো, ঢাকা যাও। এখানে ৫শ টাকার কথা হলো সেটা যদি বাইরে যায়, বা কোনো অভিভাবক কোনো স্যার অভিযোগ দেয় তাহলে অবস্থা খারাপ আছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা জানায়, ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রথম দিন টাকা দিতে হবে বললেও দ্বিতীয় দিন ওই আপা সবাইকে বলেন- ৫শ টাকা করে দিতে হবে যদি না দাও তাহলে তোমরা নম্বর পাবে না। এ কথা বাইরে যায় তাহলে তোমাদের অবস্থা খারাপ আছে। তাই আমরা বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি।

অভিভাবক আনিছুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা যদি এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে ঘুষের পাঠ শেখান এবং ব্ল্যাকমেইল করেন, তবে সন্তানরা কার কাছে নিরাপদ?

অভিভাবক আমিনুল ইসলাম বলেন, এই কেন্দ্রটিতে পরীক্ষা আসলে ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কাছে টাকা আদায় করা হয়। আমার ছেলে বাড়িতে এসে পরীক্ষার জন্য ৫শ টাকা চেয়েছে। টাকা না দিলে নম্বর নাকি দিবে না। তাই দিয়েছি।

শিক্ষিকা র্মোশেদা বেগমের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে বলেন, আমি খুব ব্যস্ত আছি। এক সেকেন্ডও কথা বলার সুযোগ নেই বলে ফোন কেটে দেন।

থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তৈয়ব আলী বলেন, বিষয়টি আপনার কাছে শুনলাম। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরীক্ষা কেন্দ্র সচিব রেজাউল করিম বলেন, কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে টাকা দাবি করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষায় টাকা আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



এসআইএল/বিবিএন