নীলফামারীতে তিনগুণ দামে দোকানে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল

Fuel oil is being sold at three times the price in stores
বিজয় বাংলা ২৩ মার্চ ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ন সারা বাংলা
বিজয় বাংলা ২৩ মার্চ ২০২৬ ১২:১১ অপরাহ্ন
নীলফামারীতে তিনগুণ দামে দোকানে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল
---- সংগৃহীত

নীলফামারীতে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট রয়েছে। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ তেল পাম্প, কোথাও সীমিত পরিমাণ তেল এলেও দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও তা পাওয়া যাচ্ছে না। অপরদিকে অধিকাংশ তেল পাম্প বন্ধ থাকলেও বাজারের খুচরা দোকানগুলোতে অতিরিক্ত মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। রোববার (২২ মার্চ) জেলার বিভিন্ন জায়গায় এমন চিত্র দেখা যায়।  


সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত তেল পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। অধিকাংশ পাম্পেই তেল নেই লেখা নোটিশ ঝুলছে। কোথাও সীমিত সরবরাহ এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে পাম্পে তেল না মিললেও বিভিন্ন জায়গায় খুচরা দোকানে অতিরিক্ত মূল্য পাওয়া যাচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। 


হাট বাজারের দোকানগুলোতে প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায় ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। অথচ সরকার নির্ধারিত দামে পেট্রোল প্রতি লিটার ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থাকার কথা।  


মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, বিভিন্ন তেল পাম্পে তেল এলেও সরাসরি মোটরসাইকেল চালকদের না দিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খুচরা দোকানিদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন পাম্প মালিকরা। তারা অবৈধভাবে মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এতে করে অতিরিক্ত মূল্যে কিনতে হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন।  


মোটরসাইকেল চালক হাসান আলী বলেন, আমরা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নিয়মিত তেল পাচ্ছি না৷ তেল পাম্পে আসলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তবে তেল পাম্প মালিকরা সরাসরি আমাদের কম তেল দিলেও সিন্ডিকেটের কাছে তেল বিক্রি করছে। তেল পাম্পে না পেলেও খুচরা দোকানগুলোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে।   


কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, এখন সেচের মৌসুম এ সময়ে তেল দিয়ে মেশিন চালিয়ে জমিতে সেচ দিতে হয়। তবে তেল পাম্পে তেল না পাওয়ার কারণে আমরা সেচ দিতে পারছি না, কৃষি জমির ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। 


গাড়িচালক মতিন আলী বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে তেল না থাকার কারণে সমস্যার মধ্যে আছি। ঠিকমতো গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। তেল কবে আসবে এমন কিছু জানানো হয়নি তেল ছাড়া আমরা গাড়ি চালাতে পারছি না। 


মেসার্স মোজাম্মেল অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের মালিক মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা চাহিদা মতো তেল পাচ্ছি না সরবরাহ কম। যে পরিমাণ তেল মজুত করেছিলাম সেটা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে সরবরাহ না থাকলে তেল দেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া ঈদের সময়ে ব্যাবসা ভালো হয়, তেল না থাকার কারণে পাম্প বন্ধ রয়েছে।  


মেসার্স হক ফিলিং স্টেশনের মালিক শামসুল হক বলেন, তেলের সরবরাহ না থাকার কারণে তেল পাম্প রয়েছে। কবে থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে সেটাও জানা যায়নি।  


কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, কেউ অবৈধভাবে তেল মজুত করলে সেখানে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা সব জায়গায় খোঁজখবর নিচ্ছি। 


ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, বিষয়টি জানতে পারলাম, কোথাও অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শামসুল আলম বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে বেশি দামে কেউ তেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেছি।


সূত্র : ঢাকা পোস্ট