আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে বাগান ॥ ভালো ফলনের স্বপ্ন কৃষকদের চোখে

The garden is covered in mango buds
অনলাইন ডেস্ক ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০০ পূর্বাহ্ন কৃষি
অনলাইন ডেস্ক ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০০ পূর্বাহ্ন
আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে বাগান ॥ ভালো ফলনের স্বপ্ন কৃষকদের চোখে
সংগৃহীত ছবি

বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে ফুটে উঠেছে আমের মুকুল। মৃদু দক্ষিণা হাওয়া আর রোদেলা আবহাওয়ায় আম বাগানগুলো এখন মুকুলের সৌরভে ভরে উঠেছে। এতে করে জেলার আমচাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আশার আলো। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ বছর আমের ভালো ফলন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার সদর, মধুখালী, বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা, সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় প্রায় সব আম গাছেই মুকুল এসেছে। অনেক বাগানে গাছগুলো পুরোপুরি মুকুলে ছেয়ে গেছে। মৌমাছির গুঞ্জন আর মুকুলের মিষ্টি গন্ধে এক মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার মুকুলের পরিমাণ বেশি, যা ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সদর উপজেলার কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। যদি ঝড়-বৃষ্টি বা পোকামাকড়ের আক্রমণ না হয়, তাহলে ভালো ফলনের আশা করছি। এতে আমাদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠবে।

মধুখালী উপজেলার আমচাষি শহিদুল শেখ জানান, মুকুল আসার সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এখন একটু যত্ন নিলেই ফলন ভালো হবে। আমরা নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ করছি এবং কৃষি অফিসের পরামর্শ মেনে চলছি।

তবে কৃষকরা কিছুটা শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়, অতিরিক্ত বৃষ্টি বা পোকামাকড়ের আক্রমণে মুকুল ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তারা আগাম সতর্কতা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া এখন পর্যন্ত আমের জন্য অনুকূল রয়েছে। তারা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন, যাতে মুকুল থেকে ফল পর্যন্ত সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা যায়।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডিএ) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, জেলায় ২ হাজার ৩০ হেক্টর জমি ও বসতবাড়িতে আম বাগান রয়েছে। এবার আবহাওয়া আমের মুকুল আসার জন্য বেশ সহায়ক ছিল। ফলে অধিকাংশ গাছে ভালো মুকুল এসেছে। কৃষকদের আমরা পরামর্শ দিচ্ছি, যেন তারা সময়মতো বালাইনাশক প্রয়োগ করেন এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যা অব্যাহত রাখেন।

তিনি আরও বলেন, মুকুল আসার পর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বিশেষ পরিচর্যা প্রয়োজন। এ সময় গাছের গোড়ায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দমনে সচেতন থাকতে হবে। তাহলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর জেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে আম চাষ করা হয় এবং প্রতি বছর এখানকার আম দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। আমচাষিরা আশা করছেন, অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবার উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং তারা ভালো দাম পাবেন।

এদিকে মুকুলে ভরা আম গাছগুলো শুধু কৃষকদেরই নয়, সাধারণ মানুষের মনেও আনন্দ ছড়িয়ে দিচ্ছে। বসন্তের এই সময়টাতে গ্রামের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।