বদলগাছীতে শত্রুতার জেরে ২৮০টি ফলন্ত কলাগাছ কেটে সাবাড়

Cut down the fruiting banana tree and cut it into pieces.
প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ) ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:১৯ অপরাহ্ন সারা বাংলা
প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ) ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:১৯ অপরাহ্ন
বদলগাছীতে শত্রুতার জেরে ২৮০টি ফলন্ত কলাগাছ কেটে সাবাড়
পূর্ব শত্রুতার জেরে রাতের আঁধারে একটি কলাবাগানের ২৮০টি ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ছবি: বিজয় বাংলা

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে রাতের আঁধারে একটি কলাবাগানের ২৮০টি ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে বর্গাচাষি আব্দুল হাকিমের প্রায় তিন লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।এদিকে এই নাশকতার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছে। 

গতকাল রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ভোরে, উপজেলার মথরাপুর ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামে ন্যাকার জনক ঘটনাটি ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলার মথরাপুর ইউনিয়নেন গয়েশপুর গ্রামের নদীর চরের একটি জমি নিয়ে রাঙ্গাঘাট গ্রামের শুকুর আলী (৭০) ও গয়েশপুর গ্রামের টিটু সরদারের (৪৫) মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা বিরোধ চলে আসছিল। ওই জমিটি কৃষক আব্দুল হাকিম ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে বন্ধক নিয়ে কলার চাষ করে আসছিলেন।ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে টিটু সরদার তার দলবল নিয়ে বাগানে প্রবেশ করে একের পর এক কলাগাছ কেটে ফেলে। গাছ কাটার শব্দ শুনে গ্রামবাসীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।


পূর্ব শত্রুতার জেরে রাতের আঁধারে একটি কলাবাগানের ২৮০টি ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ছবি: বিজয় বাংলা

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের প্রায় সব কলাগাছই কেটে ফেলা হয়েছে। অধিকাংশ গাছে বড় বড় কলার কাঁদি ঝুলে ছিল এবং কিছু গাছে মোচা বের হচ্ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই একটি সাজানো-গোছানো কলাবাগান পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে।

গ্রামবাসী জানান, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ভোরে তারা গাছ কাটার শব্দ পেয়ে এগিয়ে গেলে অপরাধীরা পালিয়ে যায়। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে একটি পরিবার জমিটি ভোগদখল করছে, কিন্তু হঠাৎ করে এভাবে ফলন্ত গাছ কাটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। গ্রামবাসী এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

রাঙ্গাঘাট গ্রামের মোয়াজ্জেম বলেন, “এটি শুধু গাছ কাটার ঘটনা নয়, এটি কৃষকের জীবিকার ওপর আঘাত। দোষীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল হাকিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি জমিটি বন্ধক নিয়ে অনেক ধার-দেনা করে কলা চাষ করেছি। জমির মালিকদের মধ্যে বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু আমার ফসলের কী দোষ ছিল? আমার প্রায় তিন লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়ে গেল। এখন আমি কার কাছে বিচার চাইবো।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, এ ব্যপারে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।