Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
www.bijoybangla.news
১৯ অক্টোবর ২০২৬
০৯:২১ অপরাহ্ন

শিশু বলাৎকারের মামলায় ‘হুজুরের’ যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার: 'Hujur' gets life sentence in child rape case

শিশু বলাৎকারের মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতের রায়ের পর স্বস্তি ফিরে এসেছে রাজশাহীর এক মাদরাসায়। রাজশাহী মহানগরীর ছোটবনগ্রাম এলাকায় অবস্থিত জামি’আ রহমানিয়া মাদরাসার মুহতামিম (পরিচালক) কথিত মাও. আব্দুল জব্বার জিহাদীর বিরুদ্ধে রবিবার রাজশাহীর আদালত রায় ঘোষণা করা হয়। রাজশাহী মহানগরীর শিশু সহিংসতা অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরজ্জামান সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।


দীর্ঘ নয় বছরের আইনি লড়াই শেষে রবিবার মাদ্রাসা শিক্ষক জিহাদীর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতের যাবজ্জীবন শাস্তির ঘোষণার পর ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।


অভিযোগে জানা যায়, মাদরাসার মুহতামিম (পরিচালক) আব্দুল জব্বার জিহাদী দীর্ঘদিন থেকে কোমলমতি শিশুদেরকে বিশেষ আনুকূল্য, লোভ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বলৎকার করে আসছিলেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে ২৫ অক্টোবর নগরীর বোয়ালিয়া থানায় বলাৎকারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিশু শিক্ষার্থীর পিতা। তাৎক্ষণিকভাবে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির জরুরি বৈঠকে জিহাদীকে বহিষ্কার করা হয়। পরে থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জেল হাজতে পাঠান।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, থানায় মামলার পর অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই-এ স্থানান্তর করা হয়। পিবিআই তদন্ত শেষে অভিযোগ গঠন করে মামলাটি তৎকালীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১ এ প্রেরণ করে। আদালত ১৪ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষে মামলার শুনানিকালে মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনাল-এ হস্তান্তর করেন। এর পর সকল বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামী আব্দুল জব্বার মাহমুদ ওরফে জিহাদীকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন স্শ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন।


এদিকে মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন মাদরাসার বর্তমান মুহতামি মাও. সাইদুজ্জামান। তিনি বলেন, আমাদেরকে এই মামলার জন্য বেশ প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আইনের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই রায়ে মাদরাসার ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক সকলেই সন্তুষ্ট। মাও. সাইদুজ্জামান আরো বলেন, জিহাদীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে মাদরাসার জমি নিজ নামে দলিল করে নেয়ার (যার বাজার মূল্য ৬৬ লক্ষ টাকা প্রায়) অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানান, মাদরাসার জমি ও অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে তার বিরুদ্ধে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের করা আরো তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

© বিজয় বাংলা নিউজ
www.bijoybangla.news