Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
www.bijoybangla.news
১৯ অক্টোবর ২০২৬
০২:১৭ অপরাহ্ন

আসামে ১১০০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ, গুঁড়িয়ে দিল ১০ মসজিদ

অনলাইন ডেস্ক 1,100 Muslim families evicted in Assam

ভারতের আসামে বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার দুই দিনে ১ হাজারের বেশি বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করেছে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম। নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় এ অভিযান চালানো হয়।  


রাজ্যটিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে বাঙালি মুসলিমদের লক্ষ্য করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠেছে।


অভিযানের দ্বিতীয় দিন রোববার নগাঁও জেলার লুটুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চল কর্তৃপক্ষ ছয় শতাধিক মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিবারগুলো বনভূমির জমি অবৈধভাবে দখল করে বসবাস করছিল।


এর আগের দিন শনিবার তিন জেলায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে নগাঁও জেলায় ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবার রয়েছে।


লুটুমারিতে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ৩০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে কয়েক দশক ধরে বসবাস করে আসছিল।


সংবাদমাধ্যম স্ক্রলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দারা জমি দখলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, তারা মূলত বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং সরকারই তাদের সেখানে বসতি স্থাপনের ব্যবস্থা করেছিল।


গত জুনে অল ইন্ডিয়া ইউনিয়ন অব ফরেস্ট ওয়ার্কিং পিপলস আসাম সরকারকে লুটুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গ্রামবাসীদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল। সংগঠনটির যুক্তি ছিল, ওই এলাকার চারটি গ্রামের বাসিন্দাদের ঔপনিবেশিক আমলে চালু হওয়া বন ব্যবস্থাপনার ‘তাউঙ্গিয়া’ পদ্ধতির আওতায় সেখানে বসতি স্থাপন করা হয়েছিল। তাই তাদের সাধারণ অবৈধ দখলদার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।


রোববার উচ্ছেদ অভিযানে বাড়িঘর হারানো লুটুমারির ৪৪ বছর বয়সী বাসিন্দা আবদুল নূরকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ‘১৯৭৪ সালে সরকার আমাদের এখানে বসতি স্থাপনের ব্যবস্থা করেছিল। আমরা মূলত কাছের জুরিয়া শহরের বাসিন্দা। আমাদের পূর্বপুরুষেরা ভূমিহীন ছিলেন বলে সরকার আমাদের এখানে বসতি গড়ার ব্যবস্থা করে। সব মিলিয়ে ৩০০টি ভূমিহীন পরিবারকে চার বিঘা করে জমি দেওয়া হয়েছিল।’


এদিকে, উচ্ছেদ অভিযানে ১০টিরও বেশি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্ক্রল-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মসজিদ ৫০ বছরেরও বেশি পুরনো।


© বিজয় বাংলা নিউজ
www.bijoybangla.news