নওগাঁর বদলগাছীতে প্রবাসফেরত এক ব্যবসায়ীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তাঁর বাড়ি ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল জলিলকে দলীয় সব পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাঁর বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ৬ নম্বর বিলাশবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান কেটু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আব্দুল জলিল ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গঠনতন্ত্রের বিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে বর্তমান পদসহ বিএনপির সব পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক যোগাযোগ বা সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর জাতীয় দৈনিক সংবাদ, রাজশাহীর সোনালী সংবাদ, নওগাঁর বরেন্দ্র কণ্ঠসহ বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ‘চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে এলাকাছাড়া করার অভিযোগ’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, উপজেলার কানুপুর গ্রামের প্রবাসফেরত ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন আব্দুল জলিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১২ সেপ্টেম্বর তাঁর বাড়ি ও কীটনাশকের দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় নগদ টাকা ও দোকানের মালামালসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে নওগাঁর ৫ নম্বর আমলি আদালতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় আব্দুল জলিলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিলাশবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান কেটু বলেন, উপজেলা বিএনপি ও ইউনিয়ন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আব্দুল জলিলকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলে থেকে কেউ অপরাধ করলে এবং তার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।