Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
www.bijoybangla.news
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
০৯:৩৮ অপরাহ্ন

তীব্র লোডশেডিংয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক Anindya Islam Amit

দেশজুড়ে চলমান তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য জাতীয় সংসদে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।


বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের জন্য বিগত সরকারের ১৫ বছরের ‘ভুল ও অপরিকল্পিত নীতি’কে দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী।


জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা কোনো লুকোচুরি করতে চাই না। মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে কষ্টে আছে। এ জন্য আমি আমার মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আজকের এই পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। বিগত দেড় দশক ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি আজ এ দেশের মানুষকে ভোগ করতে হচ্ছে।’


অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা তৈরি করেছিল। দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট। এ পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।’


তিনি জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরও একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আদানি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে ৯০০ এবং রাতে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।


অন্যদিকে, গত ২১ জুলাই একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। পরে মেরামতের পর গত ১৫ আগস্ট এটি পুনরায় চালু করা হয়।


প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাধ্য হয়ে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদনের চেষ্টা করছি। বিগত সরকার এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বকেয়া রেখে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংকট কাটাতে দ্রুত ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যাতে এসব কেন্দ্রের মালিকেরা জ্বালানি আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারেন। আশা করছি, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।’


বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাত ৮টার পর দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে পালনের জন্য সংসদ সদস্যসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

সূত্র : জাগোনিউজ

© বিজয় বাংলা নিউজ
www.bijoybangla.news