নওগাঁর নিয়ামতপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক তরুণকে মারধর করে ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরের শিকার ওই তরুণকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাঁর মাথায় পাঁচটা সেলাই দেওয়া হয়েছে। এঘটনায় নিয়ামতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিয়ামতপুর সদরের হেলিপ্যাড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযুক্তরা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
মারধরের শিকার ওই তরুণের নাম সিয়াম তরফদার (১৯)। বাবার নাম নূরে আলম সিদ্দিকী। বাড়ি উপজেলার ভীমপুর গ্রামে।
আর অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের মৃত নজরুল ইসলাম তরফদারের ছেলে নুর আলম (৪৫) ও উপজেলার সাংসৈল গ্রামের আখতারুজ্জামান (৬০)।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিয়াম উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড এলাকায় অবস্থিত ড্রিমল্যান্ড কফি হাউসের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এমন সময় অভিযুক্ত নুর আলম ও আখতারুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন সিয়ামকে জোরপূর্বক নুর আলমের দোকানের ভেতরে নিয়ে যায়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দোকানের ভেতরে নিয়ে সিয়ামকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে নুর আলম ধারালো বড় ছুরি দিয়ে সিয়ামের মাথায় আঘাত করলে গুরুতর জখম হয়। এসময় অভিযুক্তরা সিয়ামের কাছ থেকে নগদ ১০ লাখ টাকা, একটি স্মার্টফোন ও একটি বাটনফোন ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনা বিষয় জানতে পারলে ভুক্তভোগীর চাচা ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুর আলম বলেন, ছেলেটিকে শাসন করার জন্য চর থাপ্পড় মেরেছিলাম, মাথায় পাঁচটি সেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন তাকে শাসন করার সময় তার টিনের দোকানে পড়ে যেয়ে ছেলেটির মাথা কেটে যায়। তিনি আরো বলেন, ছেলেটির কাছে কোন টাকা ছিল না, তার কাছ থেকে আমরা কোন কিছু নেইনি।
এ ব্যাপারে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।