জনসেবামূলক নানা কার্যক্রমের কারণে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) কার্যক্রম যখন নাগরিকদের নজরে, তখন তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে এক সাংবাদিকের মতবিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। এক সাংবাদিকের অভিযোগ, তথ্য অধিকার আইনে নতুন করে তথ্য চেয়ে আবেদন করতে গেলে সেটি গ্রহণ করা হয়নি।
তবে এ অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে রাসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজ মিসু দাবি করেছেন, ওই সাংবাদিকের আগের তিনটি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর তথ্য সরবরাহের প্রক্রিয়াও চলমান।
সাংবাদিকের অভিযোগ, তথ্য পাওয়া নাগরিকের আইনগত অধিকার। সেই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে আবেদন গ্রহণে অনীহা দেখানো হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এর প্রশাসনিক কারণ কী এবং তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন গ্রহণে কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে কি না।
তবে বিষয়টি নিয়ে রাসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজ মিসু তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে দেওয়া বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। তার দাবি, গত ২৩ আগস্ট ওই সাংবাদিক তিনটি আবেদন জমা দিয়েছেন এবং তিনটিই গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর নতুন করে আরও দুটি আবেদন নিয়ে এলে তাকে জানানো হয়, আগের তিনটি আবেদনের তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি নতুন আবেদনগুলোর তথ্যও দেওয়া হবে।
জনসংযোগ কর্মকর্তা আরও বলেন, কোনো আবেদন গ্রহণ না করা হলে তথ্য অধিকার আইনের বিধান অনুযায়ী আবেদনকারী আপিল করার সুযোগ রাখেন। সেই প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যাচার’ ও ‘সম্মানহানি’র অভিযোগ তোলা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মোস্তাফিজ মিসুর বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিনি তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। একজন জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য সরবরাহ ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আগের আবেদনগুলোর তথ্য দেওয়ার পর নতুন আবেদনের তথ্যও সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় কোনো নাগরিক বা সাংবাদিক তথ্য চাইলে আবেদন গ্রহণ, তথ্য সরবরাহ কিংবা আবেদন প্রত্যাখ্যান—প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে তথ্য দিতে বিলম্ব বা আবেদন গ্রহণে সমস্যা হলে তার কারণ আবেদনকারীকে স্পষ্টভাবে জানানো হলে ভুল বোঝাবুঝিরও অবকাশ কমে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পরিবর্তে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিষয়টির সমাধান হওয়াই প্রত্যাশিত। তথ্য অধিকার যেমন নাগরিকের অধিকার, তেমনি সরকারি প্রতিষ্ঠানেরও দায়িত্ব হলো আইন অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করা এবং একই সঙ্গে আইনসম্মত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তার ইতিবাচক ভূমিকার জায়গাটি এখানেই গুরুত্বপূর্ণ—তিনি তার বক্তব্যে আগের আবেদনগুলোর তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি নতুন আবেদনের তথ্যও দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক না বাড়িয়ে আবেদন, তথ্য সরবরাহ এবং প্রয়োজনে আপিলের আইনগত পথ অনুসরণ করলেই বিষয়টির স্বচ্ছ সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, তথ্য অধিকার নিয়ে সাংবাদিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ ধরনের মতপার্থক্য যেন গণমাধ্যম ও প্রশাসনের পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ ও জনগণকে সঠিক তথ্য জানানো—দুই পক্ষেরই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।