Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
www.bijoybangla.news
১৮ জুন ২০২৬
০৮:৫০ অপরাহ্ন

পবায় কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব বিষয়ক যুব কর্মশালা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার: Agroecology, climate justice and food sovereignty

পবা উপজেলার ‘বিলনেপালপাড়া তরুন স্বপ্ন যাত্রা সংগঠন ও বারসিক’র যৌথ উদ্যোগে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব বিষয়ক যুব কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টায় বিলনেপালপাড়া কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিক্ষন কেন্দ্রে যুব কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বারসিকের সহযোগী কর্মসূচি কর্মকর্তা মোসা: সুলতানা খাতুন।

বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার মো: তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে প্রকৃতির কোনো ক্ষতি না করে মাটি, পানি, বাতাস, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের পারস্পরিক ভারসাম্য বজায় রেখে স্থায়ী এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে চাষাবাদ করাই হলো  কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা। পরিবেশ-প্রতিবেশ এর মধ্যে সকল উদ্ভিদ ও প্রাণীকে টিকিয়ে রাখতে কৃষিপ্রতিবিদ্যা অপরিহার্য। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে স্থানীয় মানুষের জ্ঞান অভিজ্ঞতাকে কৃষি কাজে লাগানো। স্থানীয় বীজের ব্যবহার ও সংরক্ষন বিষয়ে ধারনা প্রদান। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় জৈব সারের ব্যবহার পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। এর ফলে টেকসই চাষাবাদ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, মাটি ও জল ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

তিনি আরো বলেন, তরুণরা কৃষিকাজে এগিয়ে আসছে-কৃষি প্রতিবেশবিদ্যা জলবায়ু নায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ছে কৃষিখাতে। সম্প্রতি একটি যুব কর্মশালার মাধ্যমে তরুণরা কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, ইগ্রোইকোলজি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা লাভ করেছে।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া তরুণ ও তরুণীরা জানান, পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ, স্থানীয় বীজ সংরক্ষণ, জৈব সার ব্যবহার ও ন্যায্য বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ তাদের কৃষিতে আগ্রহী করে তুলছে। বিশেষ করে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে।

তরুণদের মধ্য থেকে মোঃ তুহিদ বলেন, এই ধরনের কর্মশালা তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করবে। তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা কৃষিকে আরও লাভজনক ও জলবায়ু সহনশীল করে তুলবে। তরুণদের এই বিষয়ে সচেতন ও সক্রিয় করে তোলা হয়, যাতে তারা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দিতে পারে এবং কৃষিক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

মোসা: আফসানা খাতুন বলেন, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও স্থানীয় কৃষি পদ্ধতির উপর জোর দিতে, যা মাটির স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি উৎপাদনে যে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হচ্ছে এবং তা মোকাবিলায় যুব সমাজের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।

কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের এলাকায় পরিবেশবান্ধব কৃষি সম্প্রসারণ, জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি এবং খাদ্য সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


© বিজয় বাংলা নিউজ
www.bijoybangla.news