Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ১৮ জুন ২০২৬
www.bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

ময়নাতদন্ত এড়াতে ১০ হাজার টাকা দাবি পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:- Demand 10 thousand rupees

রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার দায়রাপাক এলাকার বাসিন্দা সেকেন্দার আলীর ছেলে মামুন আলী (৩০) গাছ থেকে পড়ে আহত হওয়ার একদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তবে তার মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই গ্রহণ করতে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে প্রতিবেশীর গাছে উঠে ডাব পাড়ার সময় পা পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হন মামুন। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি চেয়ে আরএমপির চন্দ্রিমা থানায় লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের পর থানার ওসি দুই কনস্টেবলসহ এসআই নাসির উদ্দিনকে রামেক মর্গে পাঠান।

নিহতের বাবা সেকেন্দার আলীর অভিযোগ, মর্গের সামনে অপেক্ষার সময় এসআই নাসির উদ্দিন তাদের জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিতে হলে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। অন্যথায় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। তিনি দাবি করেন, ওসির নাম উল্লেখ করেই এই টাকা দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার সকালে মর্গের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মৃতের স্বজনদের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডাও হয়। একপর্যায়ে সেকেন্দার আলী জানিয়ে দেন, ময়নাতদন্ত করা হলে তিনি ছেলের মরদেহ গ্রহণ করবেন না।স্বজনদের দাবি, ঘটনাটি সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাজনিত হওয়ায় তারা কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতে চাননি। সে কারণেই ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এরপরই পুলিশের পক্ষ থেকে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ তাদের।

সেকেন্দার আলী বলেন, “আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য কারও বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। তাই ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু টাকা না দিলে ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানানো হয়। আমি টাকা দিতে পারব না। প্রয়োজনে মরদেহ নেব না, তবুও ময়নাতদন্ত করাতে রাজি নই।”

পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও পুলিশ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেয়। একপর্যায়ে নিহতের স্বজনরা মর্গ এলাকা ত্যাগ করেন। পরে বিষয়টি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে তারা স্বজনদের ডেকে নেন এবং দুপুরের পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দ্রিমা থানার এসআই নাসির উদ্দিন বলেন, “টাকা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছিল। এ কারণেই মরদেহ হস্তান্তরে কিছুটা সময় লাগছিল।”

চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলামও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “ময়নাতদন্ত না করার শর্তে পুলিশের কেউ টাকা চেয়েছেন -এ অভিযোগ সঠিক নয়। আইনগত জটিলতা এড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছিল। এতে পরিবারটি ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।”

এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) গাজিউর রহমান বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


© বিজয় বাংলা নিউজ
www.bijoybangla.news