Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | www.bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Tuesday , ১৬ জুন ২০২৬ | ০৬:২৩ অপরাহ্ন

সারদা পুলিশ একাডেমীর পুরোনো মালপত্র বিক্রি, পুকুর লিজে ব্যাপক অনিয়ম

আবুল কালাম আজাদ ১৬ জুন ২০২৬

পুকুর লিজ ও পুরোনো মালপত্র বিক্রিতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নিয়ম থাকলেও এবার তা মানা হয়নি রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমীতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘নিজেদের পছন্দের লোকদের’ ডেকে তাদের নিকট একাডেমীর মালপত্র বিক্রি ও পুকুর লিজ দেওয়া হয়েছে। পূর্বে বিভিন্ন সময় মালামাল বিক্রয়ের আগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া ছাড়াও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এলাকায় মাইকিংও করা হয়েছে। এবার এসবের কিছুই হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তিনটি পুকুর দুই বছরের জন্য লিজ পেয়েছেন চারঘাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মোজাফফর হোসেন। আর রাজশাহী শহরের এক ব্যবসায়ীর কাছে পুরোনো টিনসহ কিছু মালপত্র বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি বিক্রয় পরবর্তী সময়ে জানতে পারেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লিজ দেওয়া পুকুর তিনটির একটি একাডেমির চিমনি হলের দক্ষিণে অবস্থিত। এটির আয়তন প্রায় ১০ বিঘা। একই সমান আয়তনের আরেকটি পুকুর অবস্থিত ক্যানটিনের পূর্ব পাশে। আর প্রায় ৪ বিঘা আয়তনের আরেকটি পুকুর এসপি কোয়ার্টারের পশ্চিমে। দুই বছরের জন্য মাত্র ১৪ লাখ টাকায় পুকুরগুলো লিজ দেওয়া হয়েছে যা পানির দর বলে স্থানীয়রা জানান।

অন্যদিকে এমটি শেডের পুরোনো দুই গাড়ি টিনসহ অন্যান্য মালপত্র বিক্রি করা হয়েছে মাত্র ২৪ হাজার টাকায়। রাজশাহী শহরের একজন ভাঙারি ব্যবসায়ী গিয়ে এসব কিনে নিয়ে এসেছেন। কাগজপত্র ছাড়াই এসব মালপত্র একাডেমি থেকে বের করার সময় স্থানীয়রা ওই ব্যবসায়ীকে আটকিয়েছিলেন। তখনকার ধারনকৃত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ওই ব্যবসায়ীর নাম জানতে চাচ্ছেন। তখন তিনি নিজের নাম জানান বিশাল। তিনিই মালপত্র কিনেছেন বলে স্থানীয়রা  জানান।

স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, ‘আগে কোনো দিন এভাবে গোপনে সরকারি কোন মালামাল বিক্রি করা হয়নি। এবার আমরা কিছুই জানতে পারিনি। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি নাই, এলাকায় মাইকিং নাই, পরে শুনছি মালপত্র বিক্রি হয়ে গেছে। পুকুরও নাকি বিএনপি নেতা লিজ পেয়েছেন।’ তিনি দাবি করেন, নামমাত্র মূল্যে টিনসহ অন্যান্য পুরোনো মালপত্র বিক্রি করা হয়েছে। প্রতিযোগিতাপূর্ণ ইজারা প্রক্রিয়ায় পুকুর লিজ দিলে একাডেমি আরও বেশি টাকা পেত বলেও তিনি দাবি করেন।

পুকুরের লিজগ্রহীতা সাবেক কাউন্সিলর মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ইজারা প্রক্রিয়ার ব্যাপারে পুলিশ একাডেমিই কথা বলবে। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে হলে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, এই অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন একাডেমির এএসপি সুব্রত ব্যানার্জি ও ড্রাফটম্যান এ কে এম রফিকুল হাসান রাকিব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ কে এম রফিকুল হাসান রাকিব বলেন, ‘আমি বিক্রি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকি না। বিক্রি হলে আমি পার্টিকে মালপত্র বুঝিয়ে দিই। এবার আমি সেটাও করিনি। এসব ব্যাপারে প্রধান সহকারী বলতে পারবেন।’

মালপত্র বিক্রি ও পুকুর লিজের জন্য কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে পুলিশ একাডেমির প্রধান সহকারী আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমাকে একটু খোঁজ নিতে হবে। খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।’ পরে তিনি আর কল রিসিভ করেননি।

এএসপি সুব্রত ব্যানার্জি বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি, কিন্তু আমরা কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারপর যিনি বেশি টাকা দিতে চেয়েছেন, তাঁকে দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। টাকা যথানিয়মে একাডেমির তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই পুকুর ইজারা দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে একাডেমির পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সাইফুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তাই তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


পুকুর লিজ ও পুরোনো মালপত্র বিক্রিতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নিয়ম থাকলেও এবার তা মানা হয়নি রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমীতে।