Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | www.bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Tuesday , ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৩৪ অপরাহ্ন

তিস্তা-পদ্মা ব্যারেজ ও ফারাক্কার পানির হিস্যা আদায়ে শেষ পর্যন্ত লড়ব: রাজশাহীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আবুল কালাম আজাদ ​বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী: ২০ অক্টোবর ২০২৬

পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণ করে দেশের দীর্ঘদিনের পানি সংকটের স্থায়ী সমাধান করা হবে এবং আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে যতদূর যাওয়া প্রয়োজন, সরকার ততদূর যাবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

​মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

​প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্তত ১৪টি জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। তবে দেশের এই ধারাবাহিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে হলে সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে।


​‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’:-

​দেশ গড়ার তাগিদ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “এ দেশ আমাদের, এ দেশ আমাদেরই গড়তে হবে। বিদেশ থেকে কেউ এসে আমাদের দেশ গড়ে দিয়ে যাবে না। তবে কিছু কুচক্রী মহল দেশে আবার অস্থিতিশীলতা তৈরি ও সজাগ হওয়ার চেষ্টা করছে। দেশের উন্নয়নের গতিকে কেউ যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।” এ সময় তিনি সরকারের মূল দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে স্লোগান দেন—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।

​জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এতে অন্যান্যের মধ্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দসহ দল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

​কৃষকের জন্য ৪০ লাখ 'কৃষক কার্ড' ও খাল খনন:-

​কৃষি খাতের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি বিশ্বাস করে, কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের মাত্র সাত দিনের মাথায় ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এখন ক্ষুদ্র, মাঝারি ও প্রান্তিক ৪০ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।”

​তিনি জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা বীজ-সার-কীটনাশকের সুবিধা, ব্যাংক ঋণ, কৃষি বিমা এবং আবহাওয়া বার্তাসহ ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন।

​উত্তরাঞ্চলের পানি সংকট নিরসনে শহীদ জিয়াউর রহমানের বরেন্দ্র প্রকল্পের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের মধ্যে ৮ হাজার কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ হবে এবং সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে।” এ ছাড়া আগামী ৫ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


​স্বাস্থ্যসেবা ও বন্ধ কারখানা চালু:-

​উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ১ হাজার ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৫০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যাতে গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য শহরে দৌড়াতে না হয়।”

​তিনি আরও জানান, কিডনি রোগী ও হৃদ্‌রোগীদের সুবিধার্থে ডায়ালাইসিসের ওষুধ এবং চিকিৎসার সরঞ্জামাদির ওপর কর কমানো হয়েছে। এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব দূরীকরণে চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই বন্ধ থাকা প্রায় ৪৬টি কারখানা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

​সামাজিক সুরক্ষা ও শিক্ষা:-

​নারীদের স্বাবলম্বী করার ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ভালো ফলাফলে দেওয়া হবে উপবৃত্তি। পাশাপাশি পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করতে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা দেশের প্রতিটি পরিবারকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে।”

​রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ারি:-

​নাম না করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামী ও একটি বিশেষ মহলের সমালোচনা করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “একটি দল মুখে চব্বিশের চেতনার কথা বললেও আন্দোলনের শহীদদের শ্রদ্ধানুষ্ঠানে তাদের কোনো প্রতিনিধি ছিল না। তারা চব্বিশের চেতনার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা সরকারের এসব জনকল্যাণমুখী কাজের বিরোধিতা করছে এবং রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিন্তু জনগণ এখন সচেতন, তারা আর মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত হবে না।”

​১২ কোটি টাকার কৃষি প্রণোদনা বণ্টন:-

​জনসভার শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মধ্যে ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ডিজিটাল কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। বোতাম চেপে অর্থ স্থানান্তরের পর প্রধানমন্ত্রী ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে পুরো মাঠজুড়ে সমবেত লাখো জনতাও একযোগে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ধ্বনিতে চারপাশ মুখরিত করে তোলেন।


পুজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও ১০ লাখ টাকা অনুদান :-

রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন করে ১০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের জনসভা শেষে তিনি নগরের মিয়াপাড়া এলাকায় মন্দিরটি পরিদর্শনে যান।

ধর্মসভায় গিয়ে বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় রাজশাহী ধর্মসভার সভাপতি বিশ্বনাথ সরকারের হাতে ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষই এ দেশের নাগরিক। বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ সময় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ কল্যাণ ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ রাজশাহীতে একটি মডেল মন্দির নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।

 মণ্ডপটি পরিদর্শন শেষে বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। 


ছবি - বিজয় বাংলা