
রাজশাহীর দুর্গাপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এবং চেয়ার ছোড়াছুড়ির অভিযোগ উঠেছে। এতে সমাবেশস্থলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দুর্গাপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে এ ঘটনা ঘটে।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য শেষে সমাবেশের প্রধান অতিথি রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর বুলেট অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এ নিয়ে সমাবেশস্থলে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় সমাবেশে ব্যবহৃত চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে দুর্গাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে ধাক্কাধাক্কি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর বুলেট। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে এ-সংক্রান্ত ছবি আমার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে বলুন।’
তবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান আয়নাল বলেন, বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। উত্তেজনা দেখা দিলে সংসদ সদস্য নিজেই হট্টগোলকারী নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু তারা তা না মেনে ধাক্কাধাক্কি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির মতো অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চানন্দ সরকার বলেন, ‘আমি ছুটিতে ছিলাম। রাতে থানায় এসেছি। তবে সমাবেশে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।’
ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাবেশস্থলে কিছু সময় উত্তেজনা থাকলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।