
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে এবং বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি হলো ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুফ এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত বাড়ছে। গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবদুল জলিল সাহিত্যিকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কক্সবাজার জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত ফ্যমিলি সমাবেশে একথা বলেন।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বর্ণিত প্রধান প্রতিশ্রুতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচিসহ সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বিষয়ে জনগণকে অবহিতকরণের লক্ষ্যে গতকাল এ সমাবেশের আযোজন করা হয়।
কক্সবাজার জেলা তথ্য অফিসার মো: আব্দুছ ছাত্তারের সভাপতিত্বে ও সহকারী তথ্য অফিসার মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিওকলে বক্তব্য রাখেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আবদুল জলিল। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, কক্সবাজারের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ, কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গুলশান আক্তার ও উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আবদুল জলিল বলেন, নির্বাচনি ইশতাহারে বর্ণিত প্রধান প্রতিশ্রুতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচির আলোকে সরকার জনকল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নারীর জন্য গাড়ি, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুফ ইত্যাদি কর্মসূচি পুরোদমে বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সব ধর্মের উপাসনালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ধর্মীয় নেতা- ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইত, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, পালক/যাজকদেরকে মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদানের এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তিনি তার বক্তব্যে জনকল্যাণমুখী এ সকল কর্মসূচির আওতায় প্রদত্ত সেবাসমূহ ও সুফলসমূহ উপস্থিত মায়েদের উদ্দেশ্যে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক বিশেষ করে বর্তমান শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নৈতিক ও মূল্যবোধ অবক্ষয় রোধে মায়েদের দায়িত্ব-কর্তব্যের উপর গুরত্বারোপ করে বলেন, নিজেদের জীবনে ধর্মীয় ও নৈতিকতার বাস্তবিক অনুশীলনের মাধ্যমে সন্তানদেরকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ বলেন, ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক'--এই দর্শনের ভিত্তিতে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় সরকার সারাদেশে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মূল লক্ষ্য সমাজের প্রান্তিক, হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন। এ সময় তিনি বলেন, এ অর্থবছরে ৪০ লক্ষ পরিবারবে এ কার্ড প্রদান করা হবে।
এসময় বক্তারা দুর্নীতি, মাদক, গুজব, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন, ডেঙ্গু, মানব পাচার ইত্যাদি প্রতিরোধ এবং নৈতিকতা ও মূল্যবোধ, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সদ্ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে আলোচ্য বিষয়ের উপর নির্মিত বিভিন্ন ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সমাবেশে প্রায় দুশতাধিক নারী উপস্থিত ছিলেন।