
মহান মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর দুর্বার প্রতিরোধের এক উজ্জ্বল নিদর্শন রাজশাহী পুলিশ লাইন।
১৯৭১ সালের এই কালরাতে, ২৫ মার্চ গভীর রাতে, অতর্কিত হামলার মাধ্যমে পাক হানাদার বাহিনী রাজশাহী পুলিশ লাইনে আক্রমণ চালায়। পেছন দিক থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণে দিশেহারা হয়ে পড়লেও, সাহস হারাননি পুলিশ সদস্যরা। নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।জীবনের বিনিময়ে রক্ষা করেন তাদের দায়িত্ব, রক্ষা করেন দেশমাতৃকার সম্মান।
পাক বাহিনী অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও রাজশাহীর বীর পুলিশ সদস্যরা তা অমান্য করেন। এর ফলেই তারা হয়ে ওঠেন পাক সেনাদের প্রধান টার্গেট।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর হামিম রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২৫ মার্চ রাত থেকে শুরু হয়ে ২৬ মার্চ দিনভর চলে তীব্র গোলাগুলি। স্থানীয় সাধারণ মানুষও এগিয়ে আসে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায়। কিন্তু পাক সেনাদের নির্মম হামলায় বহু পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষ শহীদ হন।
২৭ মার্চ কারফিউ জারির পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। ২৭ মার্চ দুপুরে পাক বাহিনী আবারও মর্টার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ লাইনে, যেখানে রক্তে রঞ্জিত হয় পুরো প্রাঙ্গণ।
পরবর্তী দিনগুলোতেও একে একে শহীদ হন অসংখ্য বীর পুলিশ সদস্য—ডিআইজি মামুন মাহমুদসহ বহু অফিসার ও কনস্টেবল। এপ্রিল, মে, জুন, জুলাই থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত এই হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকে।
অবশেষে, দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৮ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় রাজশাহী। ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।
আজ রাজশাহী পুলিশ লাইনের ভেতরে নির্মিত শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ সেই সকল বীর শহীদদের আত্মত্যাগের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করা হয়, সে সময় পুলিশ সদস্যসহ কয়েকশ’ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন।
রাজশাহীবাসি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে রাজশাহী পুলিশ লাইনের সেই সকল শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগে রচিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস।